শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫১ পিএম
Failed to load the video
যুদ্ধক্ষেত্রে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোনই এখন অস্ত্র নয়। একটি মোবাইল ফোনের ভিডিওও হয়ে উঠতে পারে শত্রুর সবচেয়ে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্য। মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের এমনই এক কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এমনকি পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়েছে যে, কিছু সেনার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনও জব্দ করা হতে পারে।
রয়টার্সের এক্সক্লুসিভ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। সেখানে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সেনাদের মোবাইলে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইরান প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বুঝে ফেলছে তাদের হামলা কতটা সফল হয়েছে। ২৮ জুলাই লেখা কুপারের চিঠিটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এর একটি অনুলিপি এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে মোতায়েন কিছু মার্কিন সেনাকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মোবাইল ফোন জমা দিতে বলা হতে পারে। একই ধরনের ব্যবস্থা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র। যদিও এখনো হয়নি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে হাজার হাজার মার্কিন সেনার দৈনন্দিন জীবনে আসবে বড় পরিবর্তন। কারণ, অনেক সেনাই ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার খবর জানান।
সেন্টকমপ্রধান তার চিঠিতে একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। চলতি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় একজন মার্কিন সেনা মেটার স্মার্ট গ্লাস দিয়ে ভিডিও ধারণ করছেন। সেখানে সেনারা কীভাবে বাংকারে আশ্রয় নিচ্ছেন, সেটিও দেখা যায়।
অ্যাডমিরাল কুপারের মতে, এমন ভিডিও ইরানের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান গোয়েন্দা তথ্য হয়ে উঠছে। কারণ, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে নাকি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত করেছে, সেটি যুদ্ধক্ষেত্রে সব সময় বোঝা যায় না। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও সংবাদ প্রতিবেদন সেই মূল্যায়নের কাজ অনেকটাই সহজ করে দিচ্ছে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংবাদমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা, রানওয়ে বা সামরিক অবকাঠামোর বিস্তারিত প্রকাশ হলে সেটিও ইরানের জন্য পরবর্তী হামলার পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে। অর্থাৎ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্যই প্রতিপক্ষের হাতে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা উপাত্তে পরিণত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৬০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও যুদ্ধ নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন। বিরোধী আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি।
অন্যদিকে সামরিক কর্মকর্তারা জানান, স্মার্টফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য বা বিভিন্ন অ্যাপও সেনাদের অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। তাই অপারেশনাল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মোবাইল ফোন ব্যবহারে আরও কঠোর নীতি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে গুরুত্বের সাথে।
যুদ্ধক্ষেত্রে এখন শুধু অস্ত্রের শক্তিই নয়, তথ্যের নিরাপত্তাও হয়ে উঠেছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই বাস্তবতায় একটি সাধারণ মোবাইল ফোনও কখনো কখনো ক্ষেপণাস্ত্রের মতোই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আরটিভি/এআর