images

বিশেষ প্রতিবেদন

হামলার হুমকি দিয়ে হঠাৎ পিছু হটলেন ট্রাম্প; দ্রুত চুক্তির আশা! 

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ১১:২০ পিএম

Failed to load the video

একদিন আগেও ছিল হামলার হুমকি। আর মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বদলে গেল অবস্থান। ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত? সম্ভাব্য নতুন একটি সমঝোতার আশায় নাকি ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাহলে কি সত্যিই নতুন কোনো চুক্তির পথে এগোচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান?

শনিবার (১ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে আপাতত সামরিক অভিযান না চালানোর অনুরোধ জানিয়েছে। তাঁর দাবি, সম্ভাব্য একটি চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা প্রধান শর্তগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে হয়েছে সমঝোতা। সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য। 

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সম্ভাব্য চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো হরমুজ প্রণালিকে দ্রুত, সম্পূর্ণ এবং নিরাপদভাবে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা। একই সঙ্গে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির অবসান ঘটানোর বিষয়টিও আলোচনার অংশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। তবে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তিনি হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন।

আরও পড়ুন
16

ঢেউয়ের সাথে বাঁচার লড়াই করছিল একটি শিশু, অতঃপর…

এদিকে এই ঘোষণাটি আসে মাত্র একদিন পর, যখন মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র শনিবার অথবা রোববারের মধ্যে ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে পারে। সেই প্রতিবেদনের পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

ট্রাম্প আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলও সম্ভাব্য এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছে। তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার আহ্বানও জানান। তবে হামলা স্থগিতের এই ঘোষণার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করে। অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয় বিবেচনা করতে অথবা স্বল্প নোটিশে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং ফ্লাইট বিঘ্নের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়।

অন্যদিকে ট্রাম্পের আগের হামলার হুমকির জবাবে ইরানও জানিয়েছে কঠোর প্রতিক্রিয়া। ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যম নূরনিউজ দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তাহলে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ইসরায়েলের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি এখন কূটনৈতিক আলোচনাও হয়ে উঠেছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সংকট শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও ফেলতে পারে।বড় ধরনের প্রভাব। 

আরটিভি/এআর