শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫ , ০৬:৩৮ পিএম
অবশেষে বহু প্রতীক্ষার পর ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম পেলেন নাইটহুড। রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিন উপলক্ষে প্রকাশিত ২০২৫ সালের সম্মাননা তালিকায় তাকে এ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
পূর্ব লন্ডনের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা বেকহ্যামের এই স্বীকৃতি অনেকটা সময়ের দাবি ছিল। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিক আয়োজন, ইংল্যান্ড ফুটবলে অসামান্য অবদান এবং মাঠের বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে তার নাম বহুবার আলোচনায় আসে।
২০০৩ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের কাছ থেকে OBE খেতাব পাওয়া বেকহ্যাম অবশেষে পেলেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মর্যাদার স্বীকৃতি। এক আবেগঘন বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশকে প্রতিনিধিত্ব করাই আমার গর্বের সবচেয়ে বড় উৎস। আজকের এই সম্মান আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহূর্ত।
তবে এই যাত্রা ছিল বিতর্কমুক্ত নয়। ২০১৭ সালে এক হ্যাকড ইমেইল ফাঁস হয়ে পড়ে, যেখানে বেকহ্যাম নাইটহুড না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। যদিও পরে বলা হয়, ইমেইলগুলো বিকৃত ছিল এবং সেই সময় কর বিষয়ক তদন্ত চলছিল।
বেকহ্যাম শুধু ফুটবল মাঠেই নন, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায়িক উদ্যোগেও সফল। ইন্টার মায়ামির সহ-মালিক হিসেবে লিওনেল মেসিকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার সাহসী উদ্যোগ তাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। ইউনিসেফ শুভেচ্ছাদূত হিসেবেও সক্রিয় তিনি।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্লাস অব ৯২-এর অংশ, ইংল্যান্ড দলের সাবেক অধিনায়ক ও ১১৫ ম্যাচ খেলা বেকহ্যামের ক্যারিয়ার যেমন গৌরবময়, তেমনি নাটকীয়তায় ভরা। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের বিতর্কিত লাল কার্ড থেকে ২০০১ সালে গ্রীসের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা সবই ছিল তার গল্পে।
নাইটহুড শুধু বেকহ্যামের নয়, এটি আধুনিক ব্রিটেনের ক্রীড়াঙ্গনে তার অনন্য অবদানের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
আরটিভি/এসকে-টি