মো.সাঈদুর রহমান
শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫ , ০৩:৫৫ পিএম
সব ঠিক থাকলে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের ১৭তম আসরের পর্দা উঠবে। এই আসরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে এশিয়ার দুই পরাশক্তি ভারত-পাকিস্তান। কয়েকদিনের মধ্যে দল ঘোষণা করার কথা রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেরও।
তাই ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে, কোন ১৫ জন এশিয়া কাপের বিমানের টিকিট পেতে যাচ্ছেন। এ প্রক্রিয়ার কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুকে। কারণ, তরুণদের নিয়ে যে অনুশীলন ক্যাম্প সেরেছে, সেখানে প্রত্যেকেরই এশিয়া কাপের বিমানের ওঠার সক্ষমতা রয়েছে।
তবে এশিয়া কাপের ১৫ সদস্যের দলের ১১ জনের অনেকটাই নিশ্চিত। বাকি ৪ জনকে নিয়ে কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে টিম ম্যানেজমেন্টকে। আসুন দেখে নিই এশিয়া কাপের দলে জায়গা পেতে কারা সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে ব্যাটিং অর্ডারের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হলো:
টপ অর্ডার
তানজিদ হাসান তামিম : গত কয়েকটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। সবশেষ ১০ ম্যাচে ৩০ রান করেছেন তিনি। যেখানে দুটি ফিফটি ও তিনটি ত্রিশ উর্ধ্ব ইনিংস রয়েছে তার। তাই এশিয়া কাপেও ওপেনিংয়ে অনুমেয়ভাবেই দেখা যাবে এই তরুণ ব্যাটারকে।
পারভেজ হোসেন ইমন : গত বিপিএলে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে পাওয়ার প্লেতে দুর্দান্ত জুটি গড়ে নির্বাচকদের বিশ্বাসের প্রতিদান দিয়েছেন তিনি।
সবশেষ ১০ টি-টোয়েন্টিতে ৩৭৩ রান করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। এর মধ্যে তিনটি ফিফটি, দুটি ত্রিশোর্ধ্ব ও একটি সেঞ্চুরি রয়েছে। তাই নিশ্চিতভাবেই এশিয়া কাপের ওপেটিংয়ের টিকিটটা তার অপেক্ষা করছে।
লিটন কুমার দাস : এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন ক্লাসিক ব্যাটার খ্যাত লিটন কুমার দাস। ব্যাট হাতে সেভাবে আলো ছড়াতে না পারলেও তার নেতৃত্বে প্রথমবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে ও ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। তাই এশিয়া কাপে লিটনের টিকিট নিশ্চিত। সবশেষ ১০ ইনিংসে এই ডান হাতি ব্যাটারের সংগ্রহ ২৭২ রান। যেখানে মাত্র একটিতে ফিফটির দেখা পেয়েছেন তিনি।
মিডিল অর্ডার
তাওহীদ হৃদয় : মিডিল অর্ডারে টাইগারদের অটোচয়েজ তাওহীদ হৃদয়। সম্প্রতি কয়েকটা ম্যাচে বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে হৃদয়ের সামর্থ্য প্রমাণিত। মায়ের অসুস্থতার কারণে ফিটনেস ক্যাম্পে ছিলেন না তিনি। তবে এশিয়া কাপের দলে হৃদয়কে রাখার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। সবশেষ ১০ ইনিংসে হৃদয়ের সংগ্রহ ১৯৬ রান।
জাকের আলী : মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের অবসরের পর তার পজিশনে নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ দিয়েছেন জাকের আলী অনিক। দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে দলের হাল ধরা থেকে শুরু করে, শেষ দিকে ব্যাট চালিয়ে রান তুলে ভরসা জাগিয়েছেন এই ডান হাতি ব্যাটার।
তাই এশিয়া কাপের একটি টিকিট তার জন্য রাখতে বাধ্য নির্বাচকরা। সেই সঙ্গে উইকেটরক্ষকের বাড়তি সুবিধা তো রয়েছেই। সবশেষ ১০টি টি-টোয়েন্টিতে জাকের আলী করেছেন ১৮৩ রান। রানটা সংখ্যায় কম দেখালেও দলের ক্রাইসিস মোমেন্টে হাল ধরার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
শামীম পাটোয়ারী : বাংলাদেশ দলে বর্তমানে নিয়মিত খেলছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। কয়েকটা ম্যাচে ভালো করলেও বেশির ভাগ ম্যাচেই ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। কিন্তু লিটনের পছন্দের তালিকায় রয়েছে তিনি। ব্যাটিংয়ে সেরাটা দিতে না পারলেও দলের ক্রাইসিস মোন্টে তার বোলিংটাকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে পারেন টাইগার অধিনায়ক। সেই দিক থেকে এশিয়া কাপের বিমানে উঠতে পারেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
শেখ মাহেদী : সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইকেট অনেকটা স্পিনসহায়ক হওয়ায় লিটন দাসের মূল অস্ত্র হতে পারে শেখ মাহেদী। নিজের দিনে যেকোনো দলকে বিপাকে ফেলতে পারেন এই ডান হাতি স্পিনার। সবশেষ ৭ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছে মাহেদী।
এর মধ্যে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ৪ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশকে ট্রফি এনে দেন তিনি। এ ছাড়াও ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণের দিনে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে দলের প্রয়োজনের ব্যাটটাও ভালোই চালাতে পারেন মাহেদী।
লোয়ার মিডিল অর্ডার/ টেলেন্ডার
রিশাদ হোসেন : বর্তমানে টাইগারদের টি-টোয়েন্টি দলে অটোচয়েজ একমাত্র লেগ স্পিনার। এশিয়া কাপের টিকিট পাওয়ার জন্য রিশাদের জন্য এটিই যথেষ্ট হতে পারে। সবশেষ ৮ ম্যাচে রিশাদ শিকার করেছেন ৭ উইকেট। সেই সঙ্গে ইকোনোমি ঠিক রেখে বোলিং করে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার সামর্থ রয়েছে এই লেগ স্পিনার। এ ছাড়াও ব্যাটিংয়ে শেষ দিকে বড় বড় শট খেলে ম্যাচের পরিস্থিতি বদলে দিতে পারেন তিনি।
তাসকিন আহমেদ : নিশ্চিতভাবেই এশিয়া কাপ বাংলাদেশের পেস ইউনিটকে নেতৃত্ব দিবেন তাসকিন আহমেদ। সবশেষ ৫ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২ উইকেট শিকার করেছেন এই টাইগার পেসার। সেই সঙ্গে ব্যাটিংয়েও দায়িত্ব নিতে পারেননি তিনি।
তানজিম সাকিব : বোলিং ইউনিটে তাসকিনের সঙ্গে থাকবেন তানজিম সাকিব। সবশেষ ১০ ইনিংসে ১৩ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এ ছাড়াও ব্যাটটাও চালাতে পারেন দুর্দান্ত। পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৩ রানের অপরাজিত থেকে চমক দেখিয়েছেন তিনি। তাই এশিয়া কাপে সাকিবের টিকিটও নিশ্চিত।
মোস্তাফিজুর রহমান : তাসকিন-সাকিবের পর জাতীয় দলের পেস ইউনিটে অন্যতম শক্তি মোস্তাফিজ। নিজের দিনে প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দিতে পারেন তিনি। সবশেষ ৭ ম্যাচে ৬ উইকেট নিলেও ডেথ ওভারে নিজের জাদু দেখিয়ে দলকে জয় এনে দিতে পারেন তিনি।
বাকি চারটি টিকিট কাদের
উপরের ১১জন বাদেও আর চার জন পাবে এশিয়া কাপের টিকিট। যেখানে লড়াই করছেন বেশ কয়েজন ক্রিকেটার। তারা হলেন, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ, সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, সাইফ উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, তানভীর ইসলাম ও নাসুম আহমেদ।
এর মধ্য থেকে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট বেছে নিতে পারে একজন বাড়তি ওপেনার, অলরাউন্ডার, স্পিনার ও পেসার। স্পিনার কম বা বেশি হলে পেস ইউনিটে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সাইফ উদ্দিনকে দলে নিতে বাড়তি পেসারের কাজটা সারতে পারেন গাজী আশরাফ হোসেন লিপু।
তবে বাড়তি ব্যাটার হিসেবে কাকে নেবে সেটার জন্য কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে নির্বাচকদের। এখন দেখার বিষয় কি আছে মিরাজ-শান্তদের ভাগ্যে।
আরটিভি/এসআর