শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৪৮ পিএম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ‘তারুণ্যের উৎসব’ উদযাপনের অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ২৫ নভেম্বর ২০২৫ ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘দ্বিতীয় নারী কাবাডি বিশ্বকাপ-২০২৫’। বাংলাদেশের কাবাডি ইতিহাসে এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত কারণ দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে কাবাডির যেকোনো পর্যায়ের বিশ্বকাপ। এ উপলক্ষে শনিবার (১৫ নভেম্বর) জাতীয় কাবাডি স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নারী বিশ্বকাপের সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে। এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে ১১ দেশ, বাংলাদেশ, ভারত, চাইনিজ তাইপে, জার্মানি, ইরান, কেনিয়া, নেপাল, পোল্যান্ড, থাইল্যান্ড, উগান্ডা ও জাঞ্জিবার।
বিশ্বকাপ সফল করতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা, আবাসন, যাতায়াত ও ভেন্যু ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রস্তুত। আয়োজনে সহযাত্রী হওয়ায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, সরকারের অন্যান্য দপ্তর এবং পৃষ্ঠপোষকদের প্রতি বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন সংশ্লিষ্টরা বিশ্বাস করেন, এই আয়োজন নারীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠান হবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনায়। নারী বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর অধিনায়কের উপস্থিতিতে হবে ট্রফি উন্মোচন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, নারীদের র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ বর্তমানে পঞ্চম স্থানে আছে। এই বিশ্বকাপ দিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করা সম্ভব, আমাদের সামনে সে সুযোগ রয়েছে। দলের কাছে আমাদের মূল প্রত্যাশাও এটি।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশ নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজন করছে। আয়োজক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা সফলভাবে আয়োজন সম্পন্ন করা। এখানে বিভিন্ন দেশের কোচ, খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, রেফারিসহ আরও অনেকে আসবেন। আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে কাবাডি বিশ্বে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হবে।
এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেছেন, আর্জেন্টিনা শেষ মুহূর্তে আসবে না বলে আমাদের আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশন (আইকেএফ) থেকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানও আসেনি, কারণ তাদের দল ভালো অবস্থায় নেই। স্ট্যান্ডবাই থেকে পোল্যান্ড এসেছে। আন্তর্জাতিক কাবাডির সর্বোচ্চ সংস্থা আইকেএফের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সবকিছু পরিচালনা করছি।
সোহাগ বলেন, খেলা পরিচালনার জন্য প্রতিটি দেশ থেকে রেফারি আনা হয়েছে। ভারত থেকে এসেছেন পাঁচজন রেফারি। বাংলাদেশের ১০ থেকে ১২ জনের একটি টেকনিক্যাল কমিটি আছে, যাতে রেফারিংয়ের মান আরও উন্নত হয় এবং এ নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ নারী কাবাডি দল এবার বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত। কঠোর পরিশ্রম ও নিবেদন দিয়ে তারা দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। দেশবাসীর দোয়া ও সমর্থনই হতে পারে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
আরটিভি/এসকে