সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০৮:৪৮ এএম
লিওনেল মেসির সাম্প্রতিক ভারত সফর ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুরোনো বন্ধু লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পলের সঙ্গে ভারত সফরে এলেও কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঘটে যাওয়া বিশৃঙ্খলার কারণে সফরটি প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। ঘটনার পর আয়োজন নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে এবং ভাঙচুরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন।
এই ঘটনার জেরে ইভেন্টের উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলাকালে শতদ্রুর দেওয়া তথ্য থেকেই সামনে এসেছে মেসিকে ভারতে আনতে মোট খরচ হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শতদ্রু তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, ভারত সফরের জন্য লিওনেল মেসিকে পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৮৯ কোটি টাকা। পাশাপাশি কর বাবদ ভারত সরকারকে পরিশোধ করা হয়েছে আরও ১১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে মোট ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০০ কোটি টাকা।
তবে এই বিপুল খরচের বিপরীতে আয় হয়েছে তুলনামূলকভাবে কম। মেসিকে দেখার টিকিট ও ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানের বিশেষ পাস বিক্রি করে তোলা গেছে মোট ব্যয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ। কলকাতায় মেসিকে দেখার জন্য ন্যূনতম সাড়ে চার হাজার টাকার টিকিট কিনেছিলেন ভক্তরা। হোটেলে মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে ছবি তোলার জন্য নির্ধারিত মূল্য ছিল ২৫ লাখ টাকা। এছাড়া স্পনসরদের কাছ থেকেও এসেছে আরও ৩০ শতাংশ অর্থ।

যুব ভারতী স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কলকাতার কর্মসূচি আগেভাগেই বাতিল করতে বাধ্য হন মেসি। ঘটনার পর হায়দরাবাদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মেসির ব্যক্তিগত বিমানে ওঠার সময় কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে।
বিশেষ তদন্তকারী দলের জেরায় শতদ্রু আরও জানান, ব্যক্তিগত স্পর্শ একেবারেই পছন্দ করেন না মেসি। বিষয়টি বিদেশ থেকে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জানানো হলেও তা মানা হয়নি। অভিযোগ উঠেছে, পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরুপ বিশ্বাস ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আত্মীয়স্বজনদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত করেছিলেন এবং মেসির সঙ্গে অস্বস্তিকরভাবে ছবি তুলেছিলেন। এ ঘটনার জেরে তদন্ত চলাকালীন তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।
মেসির ভারত সফর ঘিরে এই আর্থিক হিসাব ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
আরটিভি/এসকে