বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০২:৪৭ পিএম
ভারতের দিল্লি ও গুয়াহাটিতে তিন দিনের সফর শেষে আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছেছে ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আয়োজিত স্বাগত অনুষ্ঠানে কাচঘেরা ট্রফির ওপর থেকে কালো কাপড় সরিয়ে উপস্থিত অতিথিদের সামনে ট্রফিটি উন্মোচন করেন ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার গিলবার্তো সিলভা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। জীবনে প্রথমবারের মতো সামনে থেকে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার সুযোগ পেয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জামাল ভূঁইয়া বলেন, সত্যি বলতে অভিজ্ঞতাটা অসাধারণ ছিল। গিলবার্তো সিলভা নিজ হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে এসেছেন আর আমি এই প্রথম সামনাসামনি ট্রফিটা দেখলাম। খুব ভালো লাগছে। টিভিতে দেখলে একরকম মনে হয়, কিন্তু সামনে থেকে দেখলে পুরো অনুভূতিটাই আলাদা। আমি তো ভেবেছিলাম ট্রফিটা একটু ছোট, কিন্তু আসলে এটা অনেক বড়। শুনলাম প্রায় ৭ কেজি খাঁটি সোনা ভাবতেই অবাক লাগছে।
ডেনমার্কে জন্ম নেওয়া এই ফুটবলার জানান, তাঁর প্রথম পছন্দ ডেনমার্ক। তবে তারা শিরোপা জিততে না পারলে ব্রাজিলের হাতেই ট্রফি দেখতে চান তিনি।
জামাল বলেন,আমি চাই ডেনমার্ক বিশ্বকাপ জিতুক, কারণ সেখানে আমার জন্ম। তবে যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই আমি চাই ব্রাজিলের হাতে ট্রফি উঠুক।
শৈশব থেকেই ব্রাজিলের ভক্ত জামাল ভূঁইয়া। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন,
ছোটবেলা থেকেই আমি ব্রাজিলকে অনুসরণ করি। আমার প্রথম প্রিয় ফুটবলার ছিলেন রোনালদো। ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দল আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছিল। তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। সেই দলে রোনালদো, রিভালদো, রোনালদিনহোর পাশাপাশি আজকের এই গিলবার্তো সিলভাও ছিলেন।
ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে থাকা জামাল ভূঁইয়া মনে করেন, বিশ্বকাপ ট্রফির বাংলাদেশ সফর দেশের ফুটবলের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তিনি বলেন, বিশ্বকাপ ট্রফি বাংলাদেশে আসা আমাদের ফুটবলারদের জন্য অনেক বড় ব্যাপার। নতুন প্রজন্ম যারা ফুটবলার হতে চায়, তাদের জন্য এটা বিশাল অনুপ্রেরণা হবে। আমার বিশ্বাস, একদিন বাংলাদেশের হাত ধরেই বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখা হবে।
আজ দুপুর থেকে ঢাকার হোটেল র্যাডিসন ব্লুতে প্রদর্শনীর জন্য রাখা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। তবে এটি দেখার সুযোগ পাবেন কেবল কোকা-কোলার “আন্ডার দ্য ক্যাপ” ক্যাম্পেইনের বিজয়ীরা। দর্শকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে বৈধ টিকিটের পাশাপাশি কোকা-কোলার ক্যাপ সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই ট্রফি স্পর্শ করা যাবে না।
বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে কোকা-কোলার উদ্যোগে পরিচালিত এই ট্রফি ট্যুর বিশ্বের ৩০টি দেশে ১৫০ দিন ধরে চলবে। আজ রাতেই ঢাকা ত্যাগ করে ট্রফিটি যাবে পরবর্তী গন্তব্যে।
আরটিভি/এসকে