বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৬:৩৪ পিএম
পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্মস্থান মাদেইরা দ্বীপে স্থাপিত তার একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্যে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তরুণের উদ্দেশ্য ও পেছনের কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম মিরর নিউজ।
মাদেইরার রাজধানী ফুনশালে অবস্থিত সিআর৭ মিউজিয়ামের সামনে স্থাপিত ভাস্কর্যটিতে আগুন দেওয়ার পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ভিডিওতে দেখা যায়, এলোমেলো চেহারার ওই তরুণ ভাস্কর্যের ওপর দাহ্য তরল ঢেলে লাইটার দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তিনি কিছুটা দূরে সরে যান। পরে স্পিকারে উচ্চস্বরে র্যাপ সংগীত চালিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচতে থাকেন।
ভিডিওটি নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন তিনি। সেখানে তার প্রায় এক হাজার অনুসারী রয়েছে। ইনস্টাগ্রামে তিনি নিজেকে ‘ব্যক্তি, ফ্রিস্টাইলার ও স্থানীয় মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং ‘zaino.tcc.filipe’ ইউজারনেম ব্যবহার করছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনে তিনি একটি রহস্যজনক বার্তা লেখেন‘এটাই ঈশ্বরের শেষ সতর্কবার্তা।
২০১৬ সালের মার্চে দ্বীপের অন্য একটি স্থান থেকে সরিয়ে এনে ভাস্কর্যটি বর্তমান স্থানে স্থাপন করা হয়। আগুনে ভাস্কর্যটি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, এর আগেও মেসি-সমর্থকদের দ্বারা ভাস্কর্যটি ভাঙচুরের শিকার হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনায় আগুন পুরো ভাস্কর্যে ছড়িয়ে পড়লেও তা দ্রুত নিভে যায়।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান রোনালদোর সমর্থকসহ অনেক সমালোচক। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, আপনি কি মনে করেন, আপনি যা করেছেন তা ভালো কিছু? এটি সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় এবং কেবল লাইক পাওয়ার জন্য করা।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে তাকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
আরটিভি/এসকে