images

খেলা / অন্যান্য

অলিম্পিক উদ্বোধনীতে দুয়োর মুখে ইসরায়েলি দল

শনিবার, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:৩৯ পিএম

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের প্রতিবাদে বিশ্বজুড়ে চলমান ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেল ক্রীড়াঙ্গনেও। ইতালিতে অনুষ্ঠিত মিলানো–কোর্তিনা ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শকদের দুয়ো শুনতে হয়েছে ইসরায়েলের অলিম্পিক দলকে।

শুক্রবার(৬ফেব্রুয়ারি) মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশগুলোর কুচকাওয়াজের সময় চার সদস্যের ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল জাতীয় পতাকা হাতে প্রবেশ করলে দর্শকদের একাংশ দুয়োধ্বনি দেয়। যদিও উচ্চ শব্দের সংগীতের কারণে তা দ্রুত চাপা পড়ে যায়। সামগ্রিকভাবে অনুষ্ঠানটি ছিল উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।

একই অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দর্শকদের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েন। মার্কিন দলকে শুরুতে করতালিতে স্বাগত জানানো হলেও স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় ভ্যান্সের ছবি ভেসে উঠতেই তা দুয়োধ্বনিতে রূপ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভের রেশই এর পেছনে কাজ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে অলিম্পিক চলাকালে মার্কিন প্রতিনিধিদলকে সহায়তায় ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের সম্পৃক্ততার খবর প্রকাশের পর ইতালিতে প্রতিক্রিয়া আরও জোরালো হয়। শুক্রবার মিলানে ‘আইসিই আউট’ স্লোগানে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন।

অন্যদিকে, কোর্তিনা ডি’আম্পেজ্জোতে পাহাড়ি ক্লাস্টারে আয়োজিত সমান্তরাল কুচকাওয়াজে মার্কিন দলকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং সেখানে ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদরাও কিছু করতালি পান। তবে পরে স্কি জাম্পিং ভেন্যু প্রেদাজ্জোতেও ইসরায়েলি দলের উদ্দেশ্যে দুয়োধ্বনি শোনা যায়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগেই সম্ভাব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন ইসরায়েলি ক্রীড়াবিদরা। দেশটির স্কি খেলোয়াড় বার্নাবাস সজোলোস বলেন, আমি প্রস্তুত। তারা যা খুশি করতে পারে। আমি শুধু ভালো রেস করতে চাই এবং নিজের সেরাটা দিতে চাই।

আরও পড়ুন
RONALDO

টানা দ্বিতীয় ম্যাচ বয়কট করলেন রোনালদো, কারণ কী

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক। একই সময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের হামলায় চারজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, অলিম্পিক ইতিহাসেও ইসরায়েলকে ঘিরে রয়েছে বেদনাদায়ক স্মৃতি। ১৯৭২ সালের মিউনিখ গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকে অলিম্পিক ভিলেজে এক হামলায় ইসরায়েলের ১১ জন ক্রীড়াবিদ নিহত হন। ওই ঘটনায় ফিলিস্তিনি নাগরিকদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছিল।

আরটিভি/এসকে