বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০১:৫৫ পিএম
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন করে অনিশ্চয়তার মেঘ জমেছে। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় টানাপোড়েনের জেরে ২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ভারত থেকে সরে যেতে পারে এমন খবর প্রকাশ করেছে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য এজ।
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করলে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশ নেয়নি। তাদের জায়গায় খেলেছে স্কটল্যান্ড।
এই সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। এর জেরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট সম্পর্ক আরও জটিল হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়তে পারে ভবিষ্যতের আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনেও।
ভারত ও পাকিস্তান আইসিসির সঙ্গে একটি সমঝোতায় রয়েছে বহুদেশীয় প্রতিযোগিতায় তারা একে অপরের দেশে গিয়ে খেলবে না। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে যেতে রাজি হয়নি ভারত। এরপরই এই চুক্তি কার্যকর হয়, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। তবে চলমান উত্তেজনা বিবেচনায় এই ব্যবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৯ ও ২০৩১ আয়োজক বদলের শঙ্কা, ২০২৯ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত ভারত। ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা ভারত ও বাংলাদেশের যৌথভাবে।
কিন্তু যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হয়, তাহলে টুর্নামেন্ট আয়োজন জটিল হয়ে পড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে হাইব্রিড মডেল (আংশিক ভেন্যু পরিবর্তন) অথবা পুরো টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়োজক পরিবর্তন হলে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তারা ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করেছে। তবে বিষয়টি এখনও প্রাথমিক আলোচনার স্তরে রয়েছে।
হাইব্রিড মডেলে আয়োজন করলে দলগুলোর অতিরিক্ত যাতায়াত, নতুন করে আবাসন ব্যবস্থা এবং ব্যয় বৃদ্ধি এসব জটিলতা তৈরি হবে। আইসিসি এই পরিস্থিতি এড়াতে চায় বলেই জানা গেছে।
তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ভারতে টুর্নামেন্ট হলে সম্প্রচার ও স্পনসরশিপ থেকে আইসিসির আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে। ফলে সব প্রতিযোগিতা ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়া সহজ সিদ্ধান্ত নয়।
২০২৯ সালের আগে ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্ক কতটা স্বাভাবিক হয় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আইসিসি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে এখন নজর একটাই আইসিসি শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেয়
আরটিভি/এসকে