রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৪৮ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেটে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে একঠোর দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক ক্রিকেটার ও নারী দলের সাবেক নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলামকে নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের এক ভার্চ্যুয়াল সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। এর ফলে দেশের ক্রিকেটের কোনো পর্যায়েই আর কখনো ফিরতে পারবেন না একসময়ের এই দাপুটে নির্বাচক।
বিসিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মঞ্জুরুল ইসলামের এই শাস্তি মূলত ক্রিকেটের সম্মান ও নারী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে বিসিবি যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, তারা তাদের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে মঞ্জুরুলের কিছু আচরণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানি হিসেবে গণ্য হয়েছে।
মূলত ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল অস্ট্রেলিয়াপ্রবাসী ক্রিকেটার জাহানারা আলমের এক সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। তিনি প্রকাশ্যে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন এবং পরবর্তীতে বিসিবির তদন্ত কমিটির কাছে চারটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে লিখিত অভিযোগ জমা দেন।
তদন্ত কমিটি প্রতিটি অভিযোগ অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করে। যদিও দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি, কিন্তু বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিটির সদস্যরা পেশাদারিত্বের চরম লঙ্ঘন ও অশোভন আচরণের প্রমাণ খুঁজে পান। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেই এই প্রাথমিক প্রমাণের কথা ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই আজ বিসিবি মঞ্জুরুলকে আজীবনের জন্য কোনো ধরনের ক্রিকেটীয় কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যদিও গত বছরের ৩০ জুনের পর থেকে তিনি বিসিবির কোনো আনুষ্ঠানিক দায়িত্বে ছিলেন না এবং বর্তমানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলে (এসিসি) কর্মরত আছেন। বিসিবির অন্য একটি সূত্র অবশ্য বলেছে, এই সিদ্ধান্ত পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
অন্যদিকে, জাহানারার অভিযোগে বিসিবির নারী উইংয়ের প্রয়াত ইনচার্জ তৌহিদ মাহমুদের নামও জড়িয়ে ছিল। তবে তদন্ত কমিটি তার বিরুদ্ধে কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি বলে জানা গেছে।
আরটিভি/এআর