বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৪০ এএম
ফরাসি একটি আদালত ধর্ষণের অভিযোগে পিএসজির মরক্কান ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির বিরুদ্ধে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযোগ অস্বীকার করে হাকিমি জানিয়েছেন, তিনি সত্য প্রকাশ্যে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে নিজের বাসভবনে এক ২৪ বছর বয়সী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এই তারকা ফুটবলারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর একই বছরের মার্চে ফরাসি বিচারব্যবস্থার অধীনে হাকিমির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অভিযোগ আনা হয়। ফ্রান্সের আইনে এ ধরনের অভিযোগের অর্থ হলো বিচারকরা অপরাধ সংঘটনের যথেষ্ট সন্দেহ দেখলেও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে বিচার শুরু হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও অনুসন্ধানের সুযোগ রাখা।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে হাকিমির আইনজীবী ফ্যানি কলিন এবং প্যারিসের উপশহর নঁতের প্রসিকিউটর নিশ্চিত করেছেন, মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে হাকিমি লেখেন, এখন এমন অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে কেবল ধর্ষণের অভিযোগই বিচারের জন্য যথেষ্ট। এটি যেমন নির্দোষদের জন্য অন্যায়, তেমনি প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতিও অবিচার। আমি শান্তভাবে বিচারের অপেক্ষায় আছি, যেখানে সত্য প্রকাশ্যে আসবে।
অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী র্যাচেল-ফ্লোর পার্দো অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, তার মক্কেল স্বস্তির সঙ্গে মামলাটি বিচারে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, এ সিদ্ধান্ত মামলার নথিতে থাকা প্রমাণের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হাকিমির আইনজীবী কলিন দাবি করেন, অভিযোগটি কেবল ওই নারীর বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। তার অভিযোগ, বাদী তদন্তে সহযোগিতা করেননি, চিকিৎসা ও ডিএনএ পরীক্ষায় সম্মতি দেননি, মোবাইল ফোন তদন্তকারীদের হাতে দেননি এবং এক গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর নাম প্রকাশ করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
কলিন আরও বলেন, বাদীর ওপর করা দুটি পৃথক মনস্তাত্ত্বিক মূল্যায়নে অভিযোগের বর্ণনায় অস্পষ্টতা এবং ট্রমা পরবর্তী মানসিক উপসর্গের অনুপস্থিতি ধরা পড়েছে।
এদিকে পার্দো এক বিবৃতিতে মন্তব্য করেন, বিচারব্যবস্থা এ ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলকভাবে কাজ করলেও পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট মনে করিয়ে দেয় পুরুষদের পেশাদার ফুটবলের জগতে এখনো মি টু আন্দোলনের প্রভাব পুরোপুরি পৌঁছায়নি।
মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে পিএসজির কোচ লুইস এনরিক বলেন, বিষয়টি বিচারব্যবস্থার হাতে। মোনাকোর বিপক্ষে ম্যাচের আগে এ নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। হাকিমি দলের সহ-অধিনায়ক পদে বহাল আছেন কি না এ প্রশ্নেরও সরাসরি উত্তর দেননি এনরিক।
মামলার বিচার শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফ্রান্সের ফৌজদারি আইনে হাকিমির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলেই বিবেচিত হবেন।
আরটিভি/এসকে