মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬ , ০৮:৪৭ পিএম
দেশের ক্রীড়া ইতিহাসে যোগ হলো এক নতুন অধ্যায়। প্রথমবারের মতো এশিয়ান গেমসে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ সার্ফিং দল। ২০২৬ সালে জাপানের নাগোয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২০তম এশিয়ান গেমসে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশের সার্ফাররা।
সাফল্যের পটভূমি:
এই ঐতিহাসিক অর্জনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল গত বছরের আগস্টে। ভারতের তামিলনাড়ুতে অনুষ্ঠিত চতুর্থ এশিয়ান সার্ফিং চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতের মতো শক্তিশালী ১৮টি দেশের সঙ্গে লড়াই করে নবম স্থান অর্জন করেন বাংলাদেশের সার্ফাররা। পাঁচ সদস্যের এই দলে ছিলেন হাসান, মান্নান, ইউনুস এবং দুই নারী সার্ফার মিলি ও ফাতেমা। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই মিলেছে এশিয়ান গেমসের টিকিট।
প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া:
সার্ফার মোহাম্মদ হাসান এই অর্জনকে দেশের জন্য বড় এক গৌরব হিসেবে দেখছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে কোচের তত্ত্বাবধানে নিবিড় প্রশিক্ষণ চলছে। নারী সার্ফার ফাতেমা আক্তার ও মহিমা আক্তার মিলি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের পতাকা ওড়ানোর ব্যাপারে বেশ আশাবাদী। ভারতের তুলনায় কক্সবাজারের ঢেউয়ের ধরণ কিছুটা ভিন্ন হলেও তারা দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কোচ ও কর্মকর্তাদের বক্তব্য:
দলের কোচ রাশেদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সার্ফারদের দক্ষতাকে বিশ্বমানে নিয়ে যাওয়াই এখন মূল লক্ষ্য। দলনেতা মো. সাইফুল্লাহ সিফাত মনে করেন, নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে এই সাফল্য আন্তর্জাতিক সার্ফিং অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।
তবে এই অগ্রযাত্রাকে ধরে রাখতে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ সার্ফিং অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। তিনি জানান, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, যা অনুমোদিত হলে দেশের সার্ফিংয়ে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
পরবর্তী লক্ষ্য:
আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত জাপানের নাগোয়ায় বসবে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। সেই আসরেই প্রথমবারের মতো সার্ফিং ইভেন্টে বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে বাংলাদেশের অদম্য সার্ফারদের।
আরটিভি/এমএইচজে