বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:৪৮ পিএম
গত মঙ্গলবার বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামে মিশরের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিল স্পেন। ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের বাইরের অপ্রীতিকর ঘটনা ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রথমার্ধ থেকেই গ্যালারির একটি অংশ থেকে ইসলামবিদ্বেষী গান ও স্লোগান শোনা যায়।
জানা গেছে, মিশরের জাতীয় সংগীতের সময় শিস দেওয়া এবং খেলোয়াড়রা গোল উদযাপনে সেজদা দিলে গ্যালারি থেকে কটূক্তি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিরতির সময় স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় সতর্কবার্তা প্রচার করা হলেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
তবে দর্শকদের ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিন ইয়ামাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন তিনি।
নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ইয়ামাল লিখেছেন, আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। স্টেডিয়ামে স্লোগান দেওয়া হয়েছে—যদি তুমি লাফ না দাও, তবে তুমি মুসলিম। আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলের উদ্দেশ্যে ছিল এবং ব্যক্তিগতভাবে আমার বিরুদ্ধে নয়, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি অত্যন্ত অসম্মানজনক ও অগ্রহণযোগ্য।’
তিনি আরও লিখেছেন, ফুটবল উপভোগ ও সমর্থনের জায়গা; ধর্ম বা পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করার জায়গা নয়। যারা ধর্মকে উপহাসের বিষয় বানায়, তারা আসলে অজ্ঞ ও বর্ণবাদী।
মরক্কো ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনি বংশোদ্ভূত এই স্প্যানিশ তারকা ইতোমধ্যে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তাকে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিভা হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ঘটনায় কাতালোনিয়ার ক্রীড়ামন্ত্রী বার্নি আলভারেজ তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা এবং খেলাধুলার চেতনার পরিপন্থী।
এদিকে বার্সেলোনার আঞ্চলিক পুলিশ ‘মোসোস’ এই ইসলামবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী আচরণের তদন্ত শুরু করেছে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাও ম্যাচ কমিশনার ও নিরাপত্তা সংস্থার রিপোর্ট পর্যালোচনা করছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। স্বাগতিক ক্লাব আরসিডি এস্পানিওল এই ঘটনার নিন্দা জানালেও দাবি করেছে যে, অল্প কিছু মানুষের অপকর্মের দায় পুরো সমর্থকগোষ্ঠীর ওপর চাপানো ঠিক হবে না।
আরটিভি/এসআর