images

খেলা / ফুটবল

বোতল হাতে আক্রমণ, কারাতে কিকে প্রতিহত করলেন রেফারি

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:২৮ পিএম

ফুটবল মাঠে রেফারির দায়িত্ব সাধারণত খেলা পরিচালনা, ফাউল শনাক্ত করা কিংবা কার্ড দেখিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখা। তবে পেরুর ঘরোয়া ফুটবল লিগ কোপা পেরুতে ঘটে গেল একেবারেই ভিন্নধর্মী ও চমকপ্রদ ঘটনা। ম্যাচ চলাকালে বোতল হাতে রেফারির ওপর হামলার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার্থে এক সহকারী কোচকে কারাতে কিক মেরে প্রতিহত করেন ম্যাচ রেফারি লুইস আলেগ্রে।

ঘটনাটি ঘটে স্পোর্ট হুয়াকুইলা ও মাগডালেনা সিইডিইসির মধ্যকার ম্যাচে। খেলার ৮২তম মিনিটে রেফারি লুইস আলেগ্রে এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠ ছাড়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময় ডাগআউটের পাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই এক দলের সহকারী কোচিং স্টাফ মাঠে ঢুকে পড়েন এবং হাতে থাকা একটি প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে রেফারির দিকে তেড়ে যান। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগেই রেফারি আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন।

এ সময় লুইস আলেগ্রে মুহূর্তের মধ্যে একটি কারাতে-স্টাইল কিক মারেন, যা গিয়ে লাগে ওই স্টাফ সদস্যের শরীরে। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পুরো ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে মাঠে থাকা খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকরা কিছু সময়ের জন্য হতভম্ব হয়ে পড়েন।

পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় পরে ম্যাচটি স্থগিত ঘোষণা করে আয়োজকরা। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি ঘিরে নেটিজেনদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

একপক্ষের দাবি, রেফারি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের মতে, আকস্মিক হামলার মুখে তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে বাঁচাতে তিনি যা করেছেন, সেটি অস্বাভাবিক নয়।

অন্যদিকে, সমালোচকদের বক্তব্য রেফারির দায়িত্ব হলো মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সহিংসতায় জড়িয়ে পড়া নয়। তাই এই ঘটনায় শুধু হামলাকারী স্টাফ সদস্যই নন, রেফারি লুইস আলেগ্রেও শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।

টুর্নামেন্ট-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পুরো ঘটনার ভিডিও ও ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সহকারী কোচের পাশাপাশি রেফারির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন
LIpy

কক্সবাজারে ‘আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ট্যুরিজম হাব’ গড়ার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

ঘটনাটি ফুটবল মাঠে নিরাপত্তা, কর্মকর্তাদের আচরণ এবং ম্যাচ পরিচালনার শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আরটিভি/এসকে