images

খেলা / ফুটবল

বিশ্বকাপের আগে প্রথমবার ইউরোপে ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:০৯ পিএম

আগামী জুনের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে ইউরোপ সফরে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। ছোট্ট ইউরোপীয় দেশ সান মারিনোর বিপক্ষে একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে জামাল ভূঁইয়ারা। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।

বাফুফের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। তবে ম্যাচটির ভেন্যু ও সময় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। পরবর্তীতে তা জানানো হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন।

এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপের ঠিক এক সপ্তাহ আগে, যখন ফিফা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আন্তর্জাতিক উইন্ডো থাকে। সাধারণত এ সময়টিতে বিভিন্ন দেশ নিজেদের প্রস্তুতি ঝালিয়ে নিতে প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করে থাকে। বাংলাদেশও সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে চাইছে।

তবে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্তটি এসেছে বেশ দ্রুত এবং কিছুটা অপ্রত্যাশিতভাবে। মাত্র তিন দিন আগেও বাফুফে ভবনে জাতীয় দল কমিটির সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ও কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু জানিয়েছিলেন, জুন উইন্ডোতে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড কিংবা মালদ্বীপকে নিয়ে প্রীতি ম্যাচ বা ছোট টুর্নামেন্ট আয়োজনের আলোচনা চলছে।

কিন্তু মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই ইউরোপের দল সান মারিনোর সঙ্গে ম্যাচ চূড়ান্ত হওয়ায় বাফুফের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সান মারিনো ইউরোপের একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র, যা ইতালির নিকটবর্তী। ইউরোপীয় ফুটবল অঞ্চলের অংশ হলেও আন্তর্জাতিক ফুটবলে দলটির অবস্থান অনেক নিচে। বর্তমানে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সান মারিনোর অবস্থান ২১১তম, যা সক্রিয় ফুটবল খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।

অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম। অর্থাৎ র‌্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে বাংলাদেশের চেয়ে ৩০ ধাপ পিছিয়ে থাকা একটি দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এই প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ইউরোপ সফরের আর্থিক ব্যয় এবং তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশের কতটা বাস্তব লাভ হবে তা নিয়ে।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, নিম্ন র‌্যাঙ্কিংয়ের দলের বিপক্ষে জয় পেলেও র‌্যাঙ্কিং পয়েন্টে লাভ সীমিত থাকে। উল্টো কোনো অঘটন ঘটলে তার নেতিবাচক প্রভাব বড় হতে পারে। ফলে এই ম্যাচকে ঘিরে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বাফুফের ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

তবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল এই সফরকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। তার মতে, ইউরোপীয় পরিবেশে খেলার অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের মানসিক দৃঢ়তা ও ট্যাকটিক্যাল উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।

বাংলাদেশের ফুটবলারদের জন্য এটি শুধু একটি প্রীতি ম্যাচ নয়, বরং ভিন্ন পরিবেশ, আবহাওয়া ও ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ারও একটি সুযোগ।

এদিকে বাফুফে তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাচটিকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। ফেডারেশনের দাবি, এটি হবে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ।

তবে তথ্য বলছে, ২০০০ সালে ইংল্যান্ডের লন্ডনে ভারত ও পাকিস্তানকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশ। সে হিসেবে এটিকে পুরোপুরি প্রথম ইউরোপ সফর বলা না গেলেও, দীর্ঘ সময় পর ইউরোপে আবার খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এটা অবশ্যই উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন
FA-CUP

এফএ কাপের শেষ চারের ড্র অনুষ্ঠিত

সব মিলিয়ে, সান মারিনোর বিপক্ষে এই প্রীতি ম্যাচ বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন নতুন অভিজ্ঞতার দুয়ার খুলছে, অন্যদিকে ফুটবলীয় পরিকল্পনা, র‌্যাঙ্কিং হিসাব এবং আর্থিক যুক্তি সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্নও। বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে এই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য কতটা কার্যকর হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


আরটিভি/এসকে