images

খেলা / ক্রিকেট

বিসিবি'র সার্কাস দেখতে ২ হাজার টাকা খরচ করলেও বৃথা যাবে না: আফতাব

বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:২২ পিএম

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নতুন করে তীব্র বিতর্ক, অস্থিরতা ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতার পালাবদল, নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়া এবং নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সার্কাস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব পড়ে ক্রিকেট প্রশাসনেও। দীর্ঘদিন বিসিবির সভাপতির দায়িত্বে থাকা নাজমুল হাসান পাপন পদত্যাগ করার পর থেকেই বোর্ডে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সভাপতির দায়িত্ব নেন ফারুক আহমেদ। পরে ২০২৫ সালে নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।

তবে ওই নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা জানিয়ে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এর পরপরই ১১ সদস্যের একটি নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যার নেতৃত্বে আনা হয়েছে সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।

হঠাৎ এই পরিবর্তন এবং নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ঘটনায় দেশের ক্রিকেটে অস্থিতিশীলতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, ঘন ঘন নেতৃত্ব পরিবর্তন বিসিবির নীতিনির্ধারণী ধারাবাহিকতা নষ্ট করছে এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের ক্রিকেটের সার্বিক উন্নয়নে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বিসিবির বর্তমান অবস্থা নিয়ে তীব্র ব্যঙ্গ ও হতাশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ সার্কাস চলছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি ২ হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেনেন, সেই টিকিটও বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।

আফতাবের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক ক্রিকেটপ্রেমীও তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন।

আফতাব তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞতার তুলনাও টানেন। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন থাকলেও সেখানকার ক্রিকেট বোর্ডের কাঠামো বা সদস্যদের পরিচয় নিয়ে জনপরিসরে খুব বেশি আলোচনা চোখে পড়েনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বোর্ডের প্রতিটি বিষয় এমনভাবে সামনে আসে যে সাধারণ মানুষ না চাইলেও সবকিছু জেনে যায়। এই অতিরিক্ত প্রচার, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিশৃঙ্খল পরিবেশকেই তিনি ‘সার্কাস’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

এদিকে, নিজের নেতৃত্বাধীন বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলে দাবি করেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তার অভিযোগ, এনএসসি অধ্যাদেশ অনুযায়ী নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

বুলবুলের ভাষ্য, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিসিবির স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-এর হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তিনি।

নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন নিয়েও থামছে না আলোচনা-সমালোচনা। ১১ সদস্যের কমিটিতে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

ক্রীড়া অঙ্গনের অনেকের আশঙ্কা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক প্রভাব আরও বাড়তে থাকলে তা দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, ঘন ঘন বোর্ড পরিবর্তন, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অস্থির এক সময় পার করছে। মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে ক্রিকেট প্রশাসনের টানাপোড়েনই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এতে শুধু সাবেক ক্রিকেটাররাই নন, সাধারণ ক্রিকেটপ্রেমীরাও ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়ছেন দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

আরটিভি/এসকে