বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:৪৭ পিএম
ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও আবারও ব্যক্তিজীবনের বিতর্কে আলোচনায় এসেছেন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে প্রেমিকা টিফানি বারসেলোসের ঘনিষ্ঠ বান্ধবী বারবারা কাভালকান্তির সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর।

ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৬০ বছর বয়সী রোমারিওর সঙ্গে টিফানির সম্পর্ক ছিল কয়েক মাসের। টিফানি তার চেয়ে প্রায় ৩৫ বছরের ছোট। তবে সম্প্রতি রোমারিওকে বারবারা ও আরও কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ফার্নান্দো দে নোরোহনায় দেখা যাওয়ার পর নতুন করে সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা শুরু হয়।
ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, বিষয়টি জানার পর টিফানি দ্রুত রোমারিওর সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে রোমারিও ও বারবারা দু’জনকেই আনফলো করেন এবং নিজের পোস্ট থেকে রোমারিওর সব মন্তব্যও মুছে ফেলেন। এ কারণে ঘটনাটিকে সামাজিক মাধ্যমে ‘ডাবল ধাক্কা’ হিসেবেও বর্ণনা করা হচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত নারী টিফানির অন্তরঙ্গ বন্ধুদের একজন ছিলেন।

এর আগে রোমারিও, টিফানি ও বারবারাকে একাধিকবার একসঙ্গে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। তাদের বেশ কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। রোমারিও কখনোই টিফানির সঙ্গে সম্পর্ক আড়াল করেননি; বরং প্রকাশ্যেই তার প্রশংসা করতেন। জানা যায়, প্রায় তিন মাসের সম্পর্কের সময়ে তারা বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।
তবে রোমারিওর প্রেমজীবন বরাবরই আলোচনার বিষয় ছিল। টিফানির সঙ্গে সম্পর্কের আগে তিনি শিক্ষার্থী অ্যালিসিয়া গোমেসের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন। ২৩ বছর বয়সী অ্যালিসিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক চলাকালেও তার নাম আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে জড়ায় বলে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা ছিল।
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রাজিলের বিখ্যাত রিও কার্নিভালে প্রথমবার টিফানির সঙ্গে রোমারিওকে হাত ধরে হাঁটতে দেখা যায়। পরে একটি স্টেকহাউসেও তাকে আরেক নারীর সঙ্গে দেখা গেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এরও আগে প্রাক্তন প্রেমিকা ব্রুনা মাচাদোর সঙ্গেও স্বল্প সময়ের জন্য তার সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগে বলে জানা যায়।

অন্যদিকে, রোমারিও আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যালিসিয়ার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর নিজেকে অবিবাহিত হিসেবে উপস্থাপন করলেও তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলেও বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। এমনকি অ্যালিসিয়ার জন্মদিনে তিনি ফুলও পাঠিয়েছিলেন বলে খবর রয়েছে।
সাম্প্রতিক এই বিচ্ছেদ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত রোমারিও, টিফানি বা বারবারা কেউই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।
খেলোয়াড়ি জীবনে রোমারিও ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার দুর্দান্ত ফিনিশিং, নিখুঁত পজিশনিং ও গোল করার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে ফুটবল ইতিহাসের সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয় তাকে।

১৯৯৪ সালে ব্রাজিলকে চতুর্থবারের মতো ফিফা বিশবকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। একই বছর তিনি বিশ্বসেরার স্বীকৃতিও পান।
অবসর নেওয়ার পর রোমারিও রাজনীতিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে ব্রাজিলের একজন সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সামাজিক ও ক্রীড়া বিষয়ক নানা ইস্যুতেও তাকে সক্রিয় দেখা যায়।
আরটিভি/এসকে