শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:২৪ পিএম
ফিফার পুনঃবিক্রয় সাইটে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ২৩ লাখ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই টিকিটগুলোর দাম সব মিলিয়ে ২৮ কোটি ২২ লাখ টাকা।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ সামনে রেখে টিকিটের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা অভিযোগ করছেন, এই দামে টিকিট কিনে খেলা দেখা সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা- আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) সম্প্রতি আবারও নতুন ধাপে টিকিট বিক্রি শুরু করেছে। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে এতে উচ্ছ্বাসের বদলে তৈরি হয়েছে অসন্তোষ। বিশেষ করে, ডাইনামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যনীতির কারণে একই ম্যাচের টিকিটের দাম সময় ও চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যনীতি অনুযায়ী টিকিটের দাম স্থির থাকে না; বরং চাহিদা বাড়লে তাৎক্ষণিকভাবে দাম বেড়ে যায়। বাস্তবে দাম কমার নজির খুবই কম, ফলে অনেক সাধারণ দর্শক প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
ক্রীড়া অর্থনীতিবিদদের মতে, উত্তর আমেরিকার বাজার (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র) খেলাধুলায় উচ্চ ব্যয়ের জন্য পরিচিত। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ফিফা সর্বোচ্চ রাজস্ব অর্জনের কৌশল নিয়েছে।
ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো টিকিটের উচ্চমূল্যের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, চার বছরে একবার আয় হওয়ার এই টুর্নামেন্ট থেকেই সংস্থার প্রধান অর্থ আসে। এই অর্থ দিয়েই বিশ্বজুড়ে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তবে সমালোচকদের মতে, এই যুক্তি দিয়ে অতিরিক্ত মূল্য আরোপকে বৈধতা দেওয়া যায় না। এতে করে ফুটবল তার ঐতিহ্যগত ‘জনগণের খেলা’ পরিচয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।
বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তাবের সময় তুলনামূলক কম দামের টিকিটের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, সবচেয়ে সস্তা টিকিটের সংখ্যা সীমিত এবং অধিকাংশ ম্যাচের টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ মূল্য প্রায় ১১ হাজার ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে।
ফিফা দাবি করছে, টিকিট বিক্রি ভালোই চলছে এবং দর্শকদের আগ্রহও ব্যাপক। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু ম্যাচে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টিকিট অবিক্রিত রয়েছে। ফলে সংস্থাটিকে বারবার নতুন ধাপে টিকিট ছাড়তে হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে অনেক ভক্তই বলেছেন, একটি ম্যাচের টিকিটের দামে বিদেশ ভ্রমণ করে ক্লাব ফুটবল দেখা সম্ভব। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, 'ফুটবল এখন ধনীদের খেলা হয়ে যাচ্ছে।'
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ ২০২৬-এর টিকিট মূল্য নির্ধারণে ফিফার কৌশল বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। আয় বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও, এতে বিপুল সংখ্যক প্রকৃত সমর্থক মাঠের বাইরে থেকে যেতে পারেন— এমন আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে