images

খেলা

এবার এক ‘বিশৃঙ্খল’ বিশ্বকাপের পথে ফিফা

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০৪:৩০ পিএম

আর মাত্র এক মাস পর শুরু হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসর ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। কিন্তু বিশ্বকাপ ঘিরে যেখানে সাধারণত মাঠের লড়াই, তারকা ফুটবলার কিংবা সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা, সেখানে এবারের আসর শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে একের পর এক বিতর্ক। টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য, রাজনৈতিক টানাপড়েন, সম্প্রচার জটিলতা এবং ইরানকে ঘিরে অনিশ্চয়তা— সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আবহে যেন অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট।

যৌথভাবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো আয়োজন করছে এবারের বিশ্বকাপ। তবে মাঠের বাইরের পরিস্থিতি এতটাই আলোচনায় যে ফুটবলের মূল আকর্ষণ অনেকটাই চাপা পড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে টিকিটের দাম নিয়ে। সাধারণ সমর্থকদের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এই মূল্য কাঠামো নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে বিশ্বজুড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের সংগঠন ফুটবল সাপোর্টার্স ইউরোপ ফিফার টিকিট নীতিকে ‘বিশাল বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘জবরদস্তিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সাধারণ দর্শকদের কার্যত স্টেডিয়ামের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে ফিফা।

ফিফার লক্ষ্য এবার বিশ্বকাপ থেকে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার আয় করা। আর সেই লক্ষ্য পূরণে টিকিটের দাম পৌঁছেছে রীতিমতো বিস্ময়কর পর্যায়ে। ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে দামি টিকিট ছিল ১ হাজার ৬০০ ডলার। অথচ ২০২৬ সালের ফাইনালের সর্বোচ্চ টিকিট মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৭০ ডলার।

যদিও ফিফা দাবি করছে অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বিভিন্ন সেকেন্ডারি মার্কেট ওয়েবসাইটে এখনো প্রচুর টিকিট অবিক্রীত পড়ে আছে। এমনকি ১২ জুন লস অ্যাঞ্জেলেস–এ অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচ–এর টিকিটও এখনো পাওয়া যাচ্ছে।

খোদ ডোনাল্ড ট্রাম্প পর্যন্ত টিকিটের দাম দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র–প্যারাগুয়ে ম্যাচের টিকিটের মূল্য ১ হাজার ডলার— এ তথ্য তিনি জানতেন না। ট্রাম্পের ভাষায়, আমি গ্যালারিতে থাকতে চাই, কিন্তু সত্যি বলতে আমিও এত দামে টিকিট কিনতাম না।

শুধু স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখাই নয়, টেলিভিশনে বিশ্বকাপ উপভোগ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারত ও চীনের মতো বিশাল জনসংখ্যার দেশগুলোতে এখনো কোনো সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বিশ্বকাপের স্বত্ব কেনেনি। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ম্যাচের সময়সূচি অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত বা ভোরে পড়ছে, পাশাপাশি সম্প্রচারস্বত্বের মূল্যও অত্যন্ত বেশি। ফলে কোটি কোটি দর্শক সরাসরি খেলা দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

একনজরে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের পূর্ণাঙ্গ সূচি

রাজনৈতিক বাস্তবতাও এবারের বিশ্বকাপের পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের পর উত্তর আমেরিকার ‘ঐক্যবদ্ধ আয়োজন’ ধারণাটিও অনেকটাই বদলে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ট্রাম্প দুজনেই নিশ্চিত করেছেন, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে।

সব বিতর্কের মাঝেও মাঠের লড়াই নিয়ে আগ্রহ কম নয়। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং তাদের অধিনায়ক লিওনেল মেসি আবারও অন্যতম ফেভারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। এছাড়া ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেন, ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স এবং দীর্ঘদিন বড় শিরোপাশূন্য ইংল্যান্ড–ও শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মাঠে নামবে।

এবারের বিশ্বকাপের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ৪৮ দলের বর্ধিত ফরম্যাট। এই আসরের মাধ্যমে প্রথমবার বিশ্বকাপে দেখা যাবে কুরাসাও ও কেপ ভার্দে–কে। বিশেষ করে কুরাসাও বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে কম জনসংখ্যার অংশগ্রহণকারী দেশ হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে।

আগামী ১১ জুন এস্তাদিও আসতেকায় পর্দা উঠবে এই মহাযজ্ঞের। আর ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে দেড় মাসব্যাপী এই ফুটবল উৎসব।

আরটিভি/এমএইচজে