বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০১:৫৯ পিএম
নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। স্পিননির্ভর উইকেটের বাইরে গিয়ে পেস ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ম্যাচের চতুর্থ দিন শেষে ড্রয়ের সম্ভাবনাই বেশি দেখা যাচ্ছিল। তবে শেষ দিনে দুর্দান্ত পেস বোলিং এবং আগ্রাসী মানসিকতায় ম্যাচ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। বিশেষ করে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদের অসাধারণ বোলিং স্পেল পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেয়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক শান্ত জানান, দল একবারের জন্যও ড্র কিংবা হারের কথা ভাবেনি।
শান্ত বলেন, আমাদের জন্য বার্তা ছিল আমরা খেলাটা জেতার জন্যই খেলব। কোচও একই বার্তা দিয়েছেন। আমরা সবাই বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম যে এখান থেকে জিততে পারব। যদি নাও পারি, তাহলে যেন ওদের ম্যাচ বাঁচাতে কষ্ট হয় এমন মানসিকতা ছিল। একবারের জন্যও ড্র বা হারের চিন্তা করিনি।
লক্ষ্য নির্ধারণের পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে মূল শক্তি ছিল বোলিং আক্রমণ।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল ২৭০ প্লাস রান করা। আমরা জানতাম, ভালো বোলিং অ্যাটাক থাকলে যেকোনো পরিস্থিতি থেকে ম্যাচ বের করে আনা সম্ভব। এই ম্যাচে পাঁচজন বোলারই দারুণ করেছে।
শান্ত বিশেষভাবে প্রশংসা করেন তাসকিন ও নাহিদ রানার। তিনি বলেন, চা বিরতির পর তাসকিন যেভাবে শুরু এনে দিয়েছে, সেটাই ম্যাচের মোমেন্টাম বদলে দিয়েছে। রানা কতটা স্পেশাল সেটা আমি জানি। ওর স্কিল ধীরে ধীরে আরও উন্নত হচ্ছে। প্রতিপক্ষ যেভাবে ওকে ভয় পাচ্ছিল, সেটা দেখতে ভালো লেগেছে।
এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের অবদানও তুলে ধরেন অধিনায়ক। বিশেষ করে মিডল ওভারে তাইজুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিং পাকিস্তানকে চাপে রাখে।
এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি ম্যাচ নয়, নিজেদের মানসিকতারও বড় পরিবর্তনের বার্তা দিল বাংলাদেশ। আগ্রাসী ক্রিকেট, পেসনির্ভর আক্রমণ এবং জয়ের বিশ্বাস সব মিলিয়ে ঢাকার এই টেস্ট দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
আরটিভি/এসকে