রোববার, ১৭ মে ২০২৬ , ১০:৪৮ এএম
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরুটা দুর্দান্তভাবে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। ডানহাতি পেসার তাসকিন আহমেদের গতি আর সুইংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানের দুই ওপেনার। আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরানোর পর প্রথম টেস্টের অভিষেকে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইজকেও সাজঘরে পাঠিয়েছেন তিনি। তাসকিনের এই জোড়া আঘাতে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বেশ চাপে পড়েছে সফরকারী পাকিস্তান।
দিনের শুরুতেই তাসকিনের গতিতে পরাস্ত হন পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজল। আগের দিনের ২১ রানের সঙ্গে বোর্ডের মাত্র ১ রান যোগ হতেই তথা দলীয় ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় পাকিস্তান। ৯ রান করা এই ব্যাটারের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যাওয়া বলটি উইকেটের পেছনে বাঁ দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে গ্লাভসবন্দী করেন লিটন কুমার দাস।
প্রথম ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পাকিস্তানের শিবিরে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। এবার তার শিকার প্রথম টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইজ। প্রথম দিনের শেষ বিকেলে তিনটি চার মেরে দারুণ কিছুর ইঙ্গিত দিলেও এদিন ২৪ বলে ১৩ রান করে মুমিনুল হকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বসা পাকিস্তানের ক্রিজে এখন আছেন অধিনায়ক শান মাসুদ ও অভিজ্ঞ বাবর আজম।
এর আগে, প্রথম টেস্টের শেষ বিকেলে ৬ ওভার ব্যাটিং করে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান তুলেছিল পাকিস্তান। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে তারা এখনো ২৫৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে।
প্রথম দিনে পাকিস্তানের বোলারদের সামনে ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরি উপহার দেন লিটন কুমার দাস। ১০৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে দল যখন চরম সংকটে, তখন প্রাচীর হয়ে দাঁড়ান তিনি। ১৬টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ১২৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এটি তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় শতক। লিটনের এই লড়াকু ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ অলআউট হওয়ার আগে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে।
বাংলাদেশের ইনিংসে তানজিদ হাসান তামিম ২৬, নাজমুল হোসেন শান্ত ২৯, মুমিনুল হক ২২ ও মুশফিকুর রহিম ২৩ রান করলেও কেউ নিজেদের ইনিংস বড় করতে পারেননি। পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে খুররম শাহজাদ ৪টি এবং মোহাম্মদ আব্বাস ৩টি উইকেট নেন।
আরটিভি/এআর