মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১১:৫০ এএম
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল জন নাইট স্মিথ (এম.জে.কে. স্মিথ) মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। ইংল্যান্ড ও কাউন্টি ক্রিকেটে দীর্ঘ অবদানের জন্য তিনি ছিলেন অত্যন্ত সম্মানিত এক ব্যক্তিত্ব।
১৯৫৮ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের হয়ে ৫০টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন স্মিথ। এর মধ্যে ২৫টি ম্যাচে তিনি দলের নেতৃত্ব দেন। ডানহাতি এই ব্যাটার টেস্ট ক্যারিয়ারে ৩১ দশমিক ৬৩ গড়ে ২ হাজার ২৭৮ রান করেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৩টি সেঞ্চুরি ও ১১টি অর্ধশতক।
কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে দীর্ঘ ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন স্মিথ। ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর দলটির অধিনায়কত্ব করেন তিনি। ১৯৫৯ মৌসুমে ক্লাবের হয়ে রেকর্ড ২ হাজার ৪১৭ রান করে আলোচনায় আসেন এবং পরের বছর উইজডেন ক্রিকেটার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে স্মিথের পরিসংখ্যান আরও সমৃদ্ধ। ৬৩৭ ম্যাচে তিনি করেন ৩৯ হাজার ৮৩২ রান, যা তাকে ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের অন্যতম করে তুলেছে।
মাঠে শান্ত স্বভাব, ভদ্র আচরণ ও নেতৃত্বগুণের জন্য তিনি ছিলেন বিশেষভাবে জনপ্রিয়। তাকে সেই সময়ের ‘জেন্টলম্যান অ্যামেচার’ সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখা হতো, যেখানে অপেশাদার ও পেশাদার ক্রিকেটাররা একসঙ্গে খেলতেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি রাগবিতেও কৃতিত্ব ছিল স্মিথের। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ফ্লাই-হাফ হিসেবে খেলেন তিনি। এছাড়া ১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ড জাতীয় রাগবি ইউনিয়ন দলের হয়েও ওয়েলসের বিপক্ষে একটি ম্যাচ খেলেছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ক্রিকেট প্রশাসনেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন স্মিথ। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলশ ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ম্যাচ রেফারি, ওয়ারউইকশায়ারের চেয়ারম্যান এবং ইংল্যান্ড দলের ট্যুর ম্যানেজার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৯৪-৯৫ অ্যাশেজ সফরেও দলের সঙ্গে ছিলেন।
তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে ইসিবি ও কাউন্টি ক্রিকেট অঙ্গন। এজবাস্টনে খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা নীরবতা পালন করে এই সাবেক অধিনায়ককে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। সাবেক ক্রিকেটার মাইক আথারটন এবং জিওফ্রে বয়কটসহ তাকে শান্ত, প্রাণবন্ত ও ক্রিকেটপ্রেমী মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।
আরটিভি/এসকে