মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬ , ০৭:২২ পিএম
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে ফুটবলের যে আসর শুরু হয়েছিল মাত্র ১৩ দল নিয়ে, প্রায় এক শতাব্দী পর ২০২৬ সালে সেই বিশ্বকাপ দাঁড়িয়েছে ৪৮ দলের মহাযজ্ঞে।
এবারের বিশ্বকাপ হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে টুর্নামেন্টটি। দল বেড়েছে, ম্যাচ বেড়েছে, বেড়েছে অংশগ্রহণের পরিধিও। ১২টি গ্রুপ, নতুন করে যুক্ত হওয়া শেষ বত্রিশ পর্ব এবং সব মিলিয়ে ১০৪ ম্যাচ নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ আগের যে কোনো আসরের চেয়ে অনেক বড়।
কিন্তু শুরুটা ছিল একেবারেই আলাদা। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল মাত্র ১৩টি দেশ। তখন ফিফার সদস্যসংখ্যাও ছিল সীমিত। ফিফার সদস্য সব দেশকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবে সবাই উরুগুয়েতে যায়নি। দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার কারণে জাপান ও সিয়াম, বর্তমান থাইল্যান্ড, অংশ নেয়নি। আর মিসর আটলান্টিক পাড়ি দেওয়ার জাহাজ মিস করায় প্রথম আসরে খেলতে পারেনি।
প্রথম বিশ্বকাপের কাঠামোও ছিল সংক্ষিপ্ত। চারটি গ্রুপে ভাগ করা হয়েছিল দলগুলোকে। প্রতিটি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি সেমিফাইনালে উঠত। এখনকার মতো দীর্ঘ নকআউট, শেষ ষোলো বা শেষ বত্রিশের চাপ তখন ছিল না।
বদল এসেছে ট্রফিতেও। ১৯৩০ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়েছিল জুলে রিমে ট্রফি, যার নকশা করা হয়েছিল বিজয়ের গ্রিক দেবী নাইকির আদলে। পরে সেটির জায়গা নেয় বর্তমানের পরিচিত সোনালি গ্লোব ট্রফি, যা এখন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় প্রতীক।
বিশ্বকাপের পরিসর ধীরে ধীরে বড় হয়েছে। ১৯৮২ সালে প্রথমবার দলসংখ্যা বাড়িয়ে করা হয় ২৪। সেই আসরে ছিল দুটি গ্রুপ পর্ব। তবে জটিল ফরম্যাট পরে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপ থেকে দলসংখ্যা দাঁড়ায় ৩২-এ। প্রায় তিন দশক সেই কাঠামোই ছিল বিশ্বকাপের পরিচিত রূপ।
২০২৬ সালে এসে আবার বড় পরিবর্তন। এবার ৪৮ দল নিয়ে মাঠে গড়াবে বিশ্বকাপ। এতে শুধু বড় দল নয়, ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলোর জন্যও খুলেছে নতুন দরজা। আগে যেসব অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব সীমিত ছিল, এবার তাদের অংশগ্রহণ আরও বেড়েছে।
ইউরোপ থেকে সর্বোচ্চ ১৬টি দল খেলবে। আফ্রিকা পেয়েছে ৯টি জায়গা, এশিয়া ৮টি। দক্ষিণ আমেরিকা ও কনকাকাফ থেকে থাকছে ৬টি করে দল। আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো কনকাকাফের হিসাবের মধ্যেই রয়েছে। ওশেনিয়া প্রথমবারের মতো সরাসরি একটি নিশ্চিত জায়গা পেয়েছে, যেখানে জায়গা করে নিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
বিশ্বকাপের বৈশ্বিক চরিত্রও সময়ের সঙ্গে বদলেছে। প্রথম আসরে ইউরোপ ও আমেরিকার দলই ছিল মূল অংশগ্রহণকারী। ১৯৩৪ সালে মিসরের মাধ্যমে আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব শুরু হয়। আর ২০২৬ সালে এসে প্রায় সব মহাদেশের অংশগ্রহণ আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত।
এই সম্প্রসারণের ফলে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু বড় নয়, আরও বৈচিত্র্যময়ও। নতুন দল, নতুন গল্প, নতুন স্বপ্ন নিয়ে এবার মাঠে নামবে ৪৮ দেশ। ১৯৩০ সালের ছোট্ট টুর্নামেন্ট থেকে ২০২৬ সালের ১০৪ ম্যাচের মহাযজ্ঞ, বিশ্বকাপ এখন সত্যিকার অর্থেই পৃথিবীর খেলা।
আরটিভি/ এসকেডি