শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ০৭:৫৩ পিএম
বিশ্বকাপ ফুটবলকে ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন অন্যতম আয়োজক দেশ মেক্সিকোতে মানবপাচার ও জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য বৃদ্ধির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।
মেক্সিকোর শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিক মিলেনিওর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে দেশটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যটক ও ফুটবলপ্রেমীর আগমনকে কেন্দ্র করে অপরাধী চক্রগুলো অবৈধ আয়ের নতুন সুযোগ খুঁজছে। বিশেষ করে মানবপাচার এবং যৌন শোষণভিত্তিক অপরাধ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বকাপের ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোর তিনটি শহরে—মেক্সিকো সিটি, গুয়াদালাহারা এবং মন্তেররেইয়ে। অপরাধবিষয়ক গবেষকদের মতে, এসব শহরের যৌন বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট অনেক রুট ও নেটওয়ার্ক বর্তমানে বিভিন্ন কার্টেল ও সংঘবদ্ধ অপরাধী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
গুয়াদালাহারায় প্রভাবশালী হালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) সক্রিয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে মন্তেররেইয়ে নর্থইস্ট কার্টেল ও সিনালোয়া কার্টেলের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। রাজধানী মেক্সিকো সিটিতেও বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততায় মানবপাচার ও যৌন শোষণের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।
মেক্সিকোর আরেক সংবাদমাধ্যম অ্যানিমেল পলিটিকো জানিয়েছে, দেশটির বেশিরভাগ বড় অপরাধী চক্র বর্তমানে জোরপূর্বক যৌন বাণিজ্য থেকে মুনাফা অর্জন করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদক ব্যবসার পাশাপাশি মানবপাচার এখন কার্টেলগুলোর অন্যতম প্রধান আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, জোরপূর্বক যৌন শোষণ ও মানবপাচারভিত্তিক বৈশ্বিক অবৈধ অর্থনীতির মূল্য বছরে প্রায় ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনের সময় মানবপাচার ও যৌন শোষণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্বকাপ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধি, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে