শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৩:২৬ পিএম
উচ্চমূল্যের টিকিট, যাতায়াত ও আবাসন ব্যয় নিয়ে সমালোচনার মধ্যেই এবার বিশ্বকাপ ভেন্যুতে খাওয়ার পানি নিয়েও ব্যবসায়িক মনোভাব দেখানোর অভিযোগের মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সমর্থক, রাজনৈতিক নেতা এবং পরিবেশবাদীদের তীব্র সমালোচনার পর স্টেডিয়ামে পানির বোতল বহন সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার (৫ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় ফিফা জানায়, ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচে দর্শকরা সর্বোচ্চ ২০ আউন্স (প্রায় ৫৯০ মিলিলিটার) ধারণক্ষমতার নরম প্লাস্টিকের, কারখানায় সিল করা ও একবার ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল সঙ্গে নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।
এর আগে নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে বিশ্বকাপের ১৬টি ভেন্যুতেই পানির বোতল নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। ফিফার যুক্তি ছিল, বোতল খেলোয়াড় বা অন্য কারও দিকে ছুড়ে মারার মাধ্যমে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন নির্দেশনায় সংস্থাটি জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে শক্ত আবরণযুক্ত পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল এখনও স্টেডিয়ামে আনার অনুমতি দেওয়া হবে না।
ফিফার এই নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে ব্যাপক জনমত ও রাজনৈতিক চাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার বিভিন্ন শহরে অনুষ্ঠিতব্য ১০৪টি ম্যাচের সময় অনেক স্থানে তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দর্শকদের নিজস্ব পানির বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা অমানবিক ও অযৌক্তিক বলে সমালোচনা শুরু হয়।
ইংল্যান্ডভিত্তিক সমর্থক সংগঠন ফ্রি লায়ন্স এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিফা অতিরিক্ত অর্থ আয়ের পথ তৈরি করতে চেয়েছিল বলে সমর্থকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে স্টেডিয়ামগুলোতে বিক্রি হওয়া পানি, কোমল পানীয় ও জুস দীর্ঘদিনের ফিফা স্পন্সর কোকা-কোলা একচেটিয়াভাবে সরবরাহ করবে। ফলে বোতল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বাণিজ্যিক স্বার্থের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ফিফার আগের সিদ্ধান্তকে “ভুল” আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি মূলত অর্থ উপার্জনের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে।
অন্যদিকে টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চোউ অভিযোগ করেন, দর্শকদের নিজস্ব পানি নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া নিছক অর্থ আদায়ের কৌশল। তার ভাষায়, যখন মানুষ নিজের সঙ্গে পানি আনতে পারে, তখন তাদের আলাদা করে বোতল কিনতে বাধ্য করার কোনো যুক্তি নেই। এতে খরচও বাড়ে, পরিবেশেরও ক্ষতি হয়।
এ ছাড়া নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি পুনঃব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, গ্রীষ্মের উচ্চ তাপমাত্রায় শুধু খেলোয়াড়রাই নয়, দীর্ঘ সময় স্টেডিয়ামে অবস্থানকারী দর্শকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
উল্লেখ্য, ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই ক্রীড়া আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সাংগঠনিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
আরটিভি/এসকে