বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ১১:৫৪ এএম
আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবল, আর ফুটবল মানেই লিওনেল মেসির দেশ। তবে বিশ্বকাপের উত্তেজনার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার আরেকটি বড় পরিচয় হলো ঐতিহ্যবাহী পানীয় ‘মাতে’। এটি শুধু একটি পানীয় নয়; বরং দেশটির সামাজিক জীবন, আড্ডা, বন্ধুত্ব ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।

আর্জেন্টিনার প্রায় ৯০ শতাংশ পরিবারের ঘরে মাতে পাওয়া যায়। ক্যাফেইনসমৃদ্ধ এই ভেষজ পানীয় তৈরি হয় ‘ইয়েরবা মাতে’ নামের উদ্ভিদ থেকে। সাধারণত ফাঁপা লাউয়ের খোল (ক্যালাবাশ) এবং ধাতব স্ট্র “বোম্বিলা” দিয়ে এটি পান করা হয়। ফুটবল তারকা লিওনেল মেসিকেও প্রায়ই মাতে পান করতে দেখা যায়, যা এই পানীয়কে বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় করেছে।
গবেষণা ও ইয়েরবা মাতে ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একজন আর্জেন্টাইন বছরে গড়ে প্রায় ১০০ লিটার মাতে পান করেন। সেই হিসাবে দিনে গড়ে প্রায় ০.২৭ লিটার বা ২৭০ মিলিলিটার অর্থাৎ প্রায় ১ থেকে দেড় কাপের সমান। তবে বাস্তবে অনেকেই একই পাত্রে বারবার গরম পানি ঢেলে দিনে ১ লিটার বা তারও বেশি মাতে পান করেন।

আর্জেন্টিনার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাতে পান করেন। দেশটিতে এটি শুধু পানীয় নয়, বরং সামাজিক রীতির অংশ। একজন মাতে প্রস্তুত করেন এবং একই পাত্র একে একে সবাই ভাগ করে পান করেন যা বন্ধুত্ব, আস্থা ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।

বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার রাস্তাঘাট, ক্যাফে, পার্ক ও পারিবারিক আড্ডায় ফুটবলের সঙ্গে মাতে যেন এক অনন্য সংস্কৃতির মেলবন্ধন তৈরি করে। মেসির দেশের মানুষের কাছে এটি শুধু অভ্যাস নয়, বরং জাতীয় পরিচয়ের অংশ।
আরটিভি/এসকে