সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৫:২৭ এএম
দীর্ঘ ৯ বছরের প্রেম, পাঁচ সন্তানের সংসার আর অসংখ্য জল্পনা-কল্পনার পর অবশেষে বিয়ে নিয়ে মুখ খুললেন পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘ অপেক্ষার কারণ, বিয়ের প্রস্তাবের গল্প এবং কবে বসছে বহু প্রতীক্ষিত সেই বিয়ের আসর— সবই এবার জানালেন তিনি।
২০২৫ সালের আগস্টে বাগদানের ঘোষণা দিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেন রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। হীরাখচিত আংটির ছবি প্রকাশ করে জর্জিনা লিখেছিলেন, ‘Yes, I do.’ এরপর থেকেই কবে বিয়ে করছেন— এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল ভক্তদের মনে।
সম্প্রতি সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো জানান, তাড়াহুড়ো করে নয়, বরং সঠিক সময়ের অপেক্ষাতেই এতদিন বিয়ে করেননি।
তিনি বলেন, আমি সবসময় বিশ্বাস করি ভালো জিনিস সঠিক সময়েই আসে। জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে নেওয়া উচিত নয়। তাই বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্তে সময় নিয়েছি।
বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে খেলা এই তারকা আরও বলেন, আমি জর্জিনাকে বিয়ে করছি শুধু সে আমার সন্তানের মা বলে নয়, বরং সে-ই আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। সে আমার জীবনের ভালোবাসা।
তিনি জানান, এক রাতে যখন তাদের দুই মেয়ে আলানা ও ইভা ঘুমিয়ে ছিল, তখনই হঠাৎ জর্জিনাকে আংটি পরিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন। ঠিক সেই সময় দুই মেয়ে ঘরে ঢুকে বাবাকে প্রশ্ন করে- তুমি কি মাকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছ?
রোনালদোর ভাষায়, ওই মুহূর্তেই বুঝেছিলাম, এটাই সঠিক সময়।
তিনি আরও জানান, জর্জিনার বহুদিনের ইচ্ছা ছিল মূল্যবান রত্নখচিত একটি আংটি পাওয়ার। তাই সেই ইচ্ছার কথাও মাথায় রেখেছিলেন তিনি।
বহুদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিয়ের সময়ও জানিয়ে দিয়েছেন রোনালদো। তার ভাষ্য, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে, ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই অনুষ্ঠিত হবে তাদের বিয়ে।
হাসতে হাসতে তিনি বলেন,‘বিশ্বকাপের পর আমরা বিয়ে করব। আর আশা করি, বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি নিয়েই বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছাতে পারব।
রোনালদো ও জর্জিনার পরিচয় ২০১৬ সালে স্পেনের মাদ্রিদে। তখন জর্জিনা বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড গুচির একটি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের প্রেমের গল্প।
বর্তমানে তারা একসঙ্গে পাঁচ সন্তান— ক্রিশ্চিয়ানো জুনিয়র, যমজ ইভা ও মাতেও, আলানা মার্টিনা এবং বেলা এসমেরালদাকে নিয়ে সুখের সংসার গড়ে তুলেছেন।
জর্জিনা বরাবরই পরিবারকে জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, আমার কাছে সন্তানরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সঙ্গে সময় কাটানোই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়। সূত্র: হোলা
আরটিভি/এমএইচজে