শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩৫ পিএম
বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রথমবার অংশ নিয়েই ইতিহাস গড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। মাত্র ৪ হাজার ৩৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন এবং প্রায় ৫ লাখ জনসংখ্যার দেশটি ২০২৬ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে। আয়তনের দিক থেকে দেশটি বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬টি জেলার চেয়েও ছোট।
![]()
আটলান্টিক মহাসাগরে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ মাইল দূরে অবস্থিত ১০টি দ্বীপ ও ৫টি ছোট উপদ্বীপ নিয়ে গঠিত কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া। পর্তুগিজ ভাষায় ‘কেপ ভার্দে’ শব্দের অর্থ ‘সবুজ অন্তরীপ’।
১৯৭৫ সালের ৫ জুলাই পর্তুগালের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পর দেশটি ধীরে ধীরে পশ্চিম আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে জীবনযাত্রার মান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও মানব উন্নয়নের সূচকে অঞ্চলটির অন্যতম সফল দেশ হিসেবে পরিচিত কেপ ভার্দে।

দেশটির অর্থনীতি মূলত পর্যটন, মৎস্য খাত এবং প্রবাসী নাগরিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে এটি ধীরে ধীরে জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও দেশটি আফ্রিকার অনেক দেশের তুলনায় এগিয়ে। সাক্ষরতার হার প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশের মধ্যে এবং প্রাথমিক শিক্ষা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক। মাথাপিছু গড় আয় প্রায় ৫ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার মার্কিন ডলার।
প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসেই সবাইকে চমকে দিয়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের সঙ্গে লড়াই করে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয় দলটি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপের নকআউটে ওঠা সবচেয়ে ছোট আয়তনের দেশ হিসেবে ইতিহাস গড়ে কেপ ভার্দে।

শেষ ষোলোতে শক্তিশালী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১২০ মিনিট লড়াই করেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় তাদের। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে সাহসী ফুটবল ও অসাধারণ দলীয় নৈপুণ্যে ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় জয় করেছে দলটি।
বিশেষ করে গোলরক্ষক ভোজিনা (আসল নাম জোসিমার জোসে এভোরা দিয়াস) ছিলেন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা। স্পেনের বিপক্ষে তিনি অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে আলোচনায় আসেন। আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও করেন একাধিক দুর্দান্ত সেভ।
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তা বলেন, খেলার চেয়েও বড় বিষয় ছিল বিশ্বের কাছে আমাদের পরিচয় তুলে ধরা। আমরা বিশ্বের সেরা দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্য দেখাতে চেয়েছি। এই পর্যায়ে এসে আর্জেন্টিনার মতো দলের বিপক্ষে ১২০ মিনিট লড়াই করতে পারা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।

কেপ ভার্দের মোট আয়তন ৪ হাজার ৩৩ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে মাত্র ছয়টি জেলার আয়তন এর চেয়ে বেশি। জেলাগুলো হলো রাঙামাটি (প্রায় ৬,১১৬ বর্গকিলোমিটার), চট্টগ্রাম (প্রায় ৫,২৮৩), বান্দরবান (প্রায় ৪,৪৭৯), খুলনা (প্রায় ৪,৩৯৫), ময়মনসিংহ (প্রায় ৪,৩৬৩) এবং নোয়াখালী (প্রায় ৪,২০২ বর্গকিলোমিটার)।
অর্থাৎ আয়তনের বিচারে কেপ ভার্দে বাংলাদেশের এই ছয়টি জেলার প্রত্যেকটির চেয়েও ছোট। কিন্তু ছোট্ট এই দ্বীপরাষ্ট্র ২০২৬ বিশ্বকাপে যে লড়াকু মানসিকতা ও পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা প্রমাণ করেছে ফুটবলে সাফল্য নির্ভর করে না দেশের আয়তন বা জনসংখ্যার ওপর; বরং পরিকল্পনা, প্রতিভা ও আত্মবিশ্বাসই পারে ইতিহাস গড়তে।
আরটিভি/এসকে