শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে জার্মানিকে বিদায় করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্ডো গিল। পেনাল্টি শুটআউটে দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে শেষ ষোলোয় তোলার নায়ক হওয়ার পাশাপাশি এবার সামনে এসেছে তার জীবনের এক হৃদয়স্পর্শী অধ্যায়।
২৬ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক কয়েক বছর আগে ছেলের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিসহ ব্যক্তিগত ফুটবল সামগ্রী বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন। তবে বিশ্বকাপে নায়কোচিত পারফরম্যান্সের পর সেই হারানো জার্সিই আবার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
গিলের সঙ্গী মেলিসা আভালোস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, তাদের নবজাতক ছেলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিল। সন্তানের চিকিৎসা ও পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে গিল নিজের ফুটবল বুট, পোশাক এবং অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের স্মৃতিবিজড়িত জার্সিটিও বিক্রি করেছিলেন।
আভালোস লিখেছিলেন, “আমাদের ছেলে জীবনের জন্য লড়ছিল, আর তার বাবা সবসময় পাশে ছিল। সে সবকিছু বিক্রি করেছে—নিজের পোশাক, ফুটবল বুট, এমনকি অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিটাও, যেটি স্মৃতি হিসেবে রেখে দিতে পারেনি।”
স্মৃতিবহ সেই জার্সিটি কিনেছিলেন গিলের বন্ধু পেদ্রো সুয়ারেজ। মাত্র ২ লাখ গুয়ারানি (প্রায় ৩৩ মার্কিন ডলার) দিয়ে জার্সিটি কিনে কঠিন সময়ে বন্ধুর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।
বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পর পুরোনো সেই ঘটনা নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর সুয়ারেজ ঘোষণা দেন, জার্সিটি তিনি কোনো মূল্য ছাড়াই গিলকে ফিরিয়ে দেবেন।
তবে বন্ধুকে মজার ছলে একটি শর্তও দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে পাঠানো বার্তায় সুয়ারেজ বলেন, জার্সি নিয়ে চিন্তা কোরো না, এটা তোমার জন্যই রেখে দেব। তবে আগে ফ্রান্সকে হারাতে হবে।
জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতা থাকলে খেলা গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে কাই হাভার্টজ ও নিক ভল্টেমাডের শট ঠেকিয়ে দেন গিল। পরে জোনাথন টাহ শট বাইরে মারেন এবং হোসে কানালে শেষ পেনাল্টি থেকে গোল করে প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
এই হারের মাধ্যমে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পেনাল্টি শুটআউটে পরাজয়ের স্বাদ পায় জার্মানি। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রে ছিলেন অরলান্ডো গিল যিনি একসময় সন্তানের জীবন বাঁচাতে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিও বিক্রি করেছিলেন।
এখন প্যারাগুয়ের সামনে ফ্রান্সের চ্যালেঞ্জ। সেই বাধা পেরোতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিটের পাশাপাশি গিলের ব্যক্তিগত জীবনের একটি অপূর্ণ অধ্যায়ও পূর্ণ হতে পারে। বহু বছর আগে ছেলের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করা প্রিয় জার্সিটি আবার ফিরে আসতে পারে তার হাতেই।
ফুটবল শুধু মাঠের জয়-পরাজয়ের গল্প নয়। এটি ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানবিকতারও গল্প। অরলান্ডো গিলের জীবন সেই সত্যকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল।
আরটিভি/এসকে