images

খেলা / ফুটবল

যে ৬ কারণে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো ব্রাজিল

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০০ এএম

রাউন্ড অব সিক্সটিনে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ে শেষ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান। ম্যাচজুড়ে আক্রমণে এগিয়ে থাকলেও বল দখলে পিছিয়ে ছিল সেলেসাওরা। এই হারের মধ্য দিয়ে টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ইউরোপের কোনো দলের কাছে হেরে বিদায় নিল ব্রাজিল।

ম্যাচ বিশ্লেষণে ব্রাজিলের বিদায়ের পেছনে ছয়টি বড় কারণ সামনে এসেছে।

শুরুর একাদশ নির্বাচনে ভুল

ইনজুরির কারণে লুকাস পাকুইতা খেলতে না পারায় তার বিকল্প নির্বাচন ছিল কোচ কার্লো আনচেলোত্তির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সৃজনশীল মিডফিল্ডার হিসেবে নেইমারকে ব্যবহার না করে শুরুর একাদশে সুযোগ দেন গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লিকে। আর্সেনাল ফরোয়ার্ড প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। ৬৭ মিনিট মাঠে থেকে মাত্র ২০টি সফল পাস দেন এবং দুটি সুযোগ তৈরি করলেও একটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন। ফলে আক্রমণে প্রয়োজনীয় সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্ট ছিল।

পেনাল্টি থেকে সুবিধা নিতে ব্যর্থতা

ব্রাজিলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পাওয়া পেনাল্টি নিতে এগিয়ে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। অথচ দলে ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও ম্যাথিয়াস কুনার মতো অভিজ্ঞ পেনাল্টি টেকার ছিলেন। গুইমারেসের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। ওই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ব্রাজিলের হাতে চলে যেতে পারত।

মিডফিল্ডে নরওয়ের আধিপত্য

পাকুইতার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মিডফিল্ড ভারসাম্য হারায়। নরওয়ের স্যান্ডার বার্গ, প্যাট্রিক বার্গ ও মার্টিন ওডেগার্ড পুরো ম্যাচে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনজন মিলে প্রায় আড়াইশ সফল পাস দিলেও ব্রাজিলের মিডফিল্ডাররা ৮০টিরও কম সফল পাস দিতে সক্ষম হন। এই পরিসংখ্যানই দুই দলের পার্থক্য স্পষ্ট করে।

একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট

ম্যাচে অন্তত পাঁচটি বড় গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিল। বদলি হিসেবে নামা এন্ড্রিক সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। এছাড়া ব্রুনো গুইমারেসের পেনাল্টি মিসের পাশাপাশি মার্টিনেল্লি ও ভিনিসিয়াস জুনিয়রও গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। অবশ্য নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নাইলান্ডও কয়েকটি অসাধারণ সেভ করে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখেন।

বদলি খেলোয়াড় নামানোর সিদ্ধান্ত

ব্রাজিলের মিডফিল্ডার ব্রুনো গুইমারেসকে তুলে নেওয়ার পরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় দলটি। ৩৪ বছর বয়সী ক্যাসেমিরো পুরো ম্যাচ খেললেও ফর্মে থাকা গুইমারেসকে বদলি করার সিদ্ধান্ত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে কুনার বদলে এন্ড্রিককে নামানোর সিদ্ধান্তও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। এন্ড্রিক সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত।

কৌশলগত ভুল

ম্যাচে বলের দখল নরওয়ের হাতে ছেড়ে দিয়ে রক্ষণাত্মক পরিকল্পনায় নামে ব্রাজিল। পুরো ম্যাচে তাদের বল দখল ছিল মাত্র ৩৪ শতাংশ, যেখানে নরওয়ের ছিল ৬৬ শতাংশ। আগের ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে ৬৮ শতাংশ বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল ব্রাজিল। কিন্তু নরওয়ের বিপক্ষে ভিন্ন কৌশল উল্টো তাদের জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নরওয়ে ছন্দে খেলেছে এবং সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিশ্চিত করেছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।

আরও পড়ুন
NEYMAR

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন নেইমার

বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে আসা ব্রাজিলের জন্য এই পরাজয় শুধু হতাশার নয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। দল নির্বাচন, মিডফিল্ডের ভারসাম্য, সুযোগ কাজে লাগানোর ব্যর্থতা এবং কৌশলগত ভুল সব মিলিয়ে নরওয়ের বিপক্ষে হারটি ছিল একাধিক সিদ্ধান্তের সমষ্টিগত ফল।


আরটিভি/এসকে