বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৬ এএম
বিশ্বকাপ এলেই ফুটবলপ্রেমীদের জীবনে যেন অন্যরকম এক উৎসব নেমে আসে। নব্বই মিনিটের একটি ম্যাচ তখন আর শুধুই খেলা থাকে না হয়ে ওঠে আবেগ, অপেক্ষা, উচ্ছ্বাস আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তের গল্প।
বন্ধুদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খেলা দেখা, প্রতিটি আক্রমণে শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা, গোলের আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরা এসবই বিশ্বকাপকে করে তোলে আরও বিশেষ মুহুর্ত।

এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় জমে উঠেছিল বিশ্বকাপের এক বিশেষ রাত। পুরো আয়োজনের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন জিয়াউর রহমান নোমান। যিনি লিওনেল মেসির একনিষ্ঠ ভক্ত। তার উদ্যোগেই এক ছাদের নিচে আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা জড়ো হয়েছিলেন প্রিয় দলের খেলা একসঙ্গে উপভোগ করতে।
এই আড্ডাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিলেন সবার প্রিয় বড় ভাই সৈয়দ মুকিতুল আহসান রঞ্জু (মিয়া ভাই)। তার উদ্যোগে প্রজেক্টরের ব্যবস্থা হওয়ায় বড় পর্দায় খেলা দেখার সুযোগ পান সবাই। ঘরের প্রতিটি কোণজুড়ে তখন ফুটবল নিয়ে আলোচনা, হাসি-ঠাট্টা আর ম্যাচ ঘিরে নানা পূর্বাভাস।

তবে সবার নজর কেড়ে নেন মিশু ভাই। খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরই তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে বসেন, আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে দুই গোল খেলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতবে। উপস্থিত অনেকেই তখন কথাটিকে নিছক আশাবাদ বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই অবিশ্বাস্যভাবে বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে তার সেই ভবিষ্যদ্বাণী।
প্রথমার্ধ অবশ্য আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য ছিল হতাশার। দলের নড়বড়ে পারফরম্যান্সে পুরো ঘরের পরিবেশ হয়ে ওঠে টানটান উত্তেজনাপূর্ণ। ইয়াসিন ভাই আবেগ সামলাতে পারছিলেন না। তার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা যেন নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেছেন।
এই হতাশা আরও গভীরভাবে স্পর্শ করে সাদ ভাই ও শাকিল ভাইকে। প্রথমার্ধের খেলা তারা প্রচণ্ড কষ্ট নিয়ে দেখেন। একপর্যায়ে হতাশা, ক্ষোভ আর রাগে তারা খেলা দেখা বন্ধ করে বাসা থেকেই বেরিয়ে যান।

অন্যদিকে মকবুল ও মঈনের অবস্থা ছিল আরও অস্থির। কিছুক্ষণ রুমে বসে খেলা দেখেন, আবার উদ্বেগে বাইরে চলে যান। যেন একটি মুহূর্তও স্থির হয়ে বসে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। পুরো ঘরে তখন অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠার ছায়া।
কিন্তু ফুটবলকে অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয় এই কারণেই। দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের গল্প। হতাশা ধীরে ধীরে জায়গা ছেড়ে দেয় আশাকে, আর সেই আশা পরিণত হয় উল্লাসে। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা জয় নিশ্চিত করলে আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটে পুরো ঘরে।
শেষ বাঁশি বাজতেই মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পরিবেশ। কিছুক্ষণ আগেও যেখানে ছিল হতাশা আর দুশ্চিন্তা, সেখানে শুরু হয় করতালি, উল্লাস আর বিজয় উদযাপন। সবাই একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন, অভিনন্দন জানান, আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

মিশু ভাইয়ের সেই অবিশ্বাস্য ভবিষ্যদ্বাণীই তখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সেই রাতটি তাই শুধু আর্জেন্টিনার একটি জয়ের স্মৃতি নয়। এটি ছিল বন্ধুত্ব, ভ্রাতৃত্ব, একসঙ্গে স্বপ্ন দেখার এবং একই আবেগে মেতে ওঠার এক অনন্য গল্প। বিশ্বকাপের আসল সৌন্দর্যও বোধহয় এখানেই একটি ম্যাচ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু সেই ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া স্মৃতিগুলো থেকে যায় বহুদিন, অনেক বছর।
আরটিভি/এসকে