বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ১০:০৯ পিএম
টেস্টের পর এবার ওয়ানডে সিরিজেও জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে গেল বাংলাদেশ। হারারের মাঠে আবারও সেই চেনা ব্যাটিং ব্যর্থতায় ভুগল সফরকারীরা। জয়ের জন্য ২৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাঝপথে ভালো অবস্থানে থেকেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৩ রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এই হারের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ হাতছাড়া করল লাল-সবুজের দল।
লক্ষ্য তাড়ায় বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশাজনক। দলীয় ১৩ রানেই প্রথম ধাক্কা আসে। ব্লেসিং মুজারাবানির বাউন্সারে ব্যাটের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার। ১০ বলে মাত্র ৫ রান করে ফেরেন এই বাঁহাতি ওপেনার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে সেই জুটি বড় হতে দেননি জিম্বাবুয়ের রিচার্ড এনগারাভা। শান্তকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৬ বলে ৯ রান করা শান্ত উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিলে দলীয় ৩৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান। ধৈর্য ও আক্রমণের মিশেলে ৭০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এই ওপেনার। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটি আর বড় করতে পারেননি। স্পিনার ব্রায়ান বেনেটের বলে স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে ৫৭ রান করে বোল্ড হন তিনি। তার বিদায়ে ভেঙে যায় ৮৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ একটি জুটি।
তানজিদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে শুরু হয় চরম ধস। তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান কিছুটা আশা জাগালেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। মুজারাবানির বলে মিড-অনে ক্যাচ দিয়ে ৬০ রান করে ফেরেন হৃদয়। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনও বেশি সময় টিকতে পারেননি। এনগারাভার বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে ৭ রানেই বিদায় নেন তিনি।
অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের আশা বাঁচিয়ে রাখলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি তিনিও। এনগারাভার শর্ট বলে ফাইন লেগে ক্যাচ দিয়ে ৪১ বলে ৩৮ রান করে ফিরলে বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে মেহেদী হাসান মিরাজ ৩৩ বলে ২৭ রান করলেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে ১৩ রান দূরেই থামে বাংলাদেশের ইনিংস।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদের তোপে চাপে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে ফেরান তাসকিন। এরপর নিজের পরের ওভারে ইনোসেন্ট কাইয়াকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। নবম ওভারে নাহিদ রানার গতির সামনে বোল্ড হন ক্রেইগ আরভিন। ওয়েসলি মাধেভেরে ১৫ রান করে ফিরলে মাত্র ৬৬ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে স্বাগতিকেরা।
সেই বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তোলেন বেন কারান ও সিকান্দার রাজা। রাজা ৩৩ রান করে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার হলেও দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন কারান। ইনিংসের শেষ ভাগে ব্র্যাড ইভান্সকে নিয়ে সপ্তম উইকেটে দুর্দান্ত জুটি গড়েন তিনি। ১২২ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন কারান। শেষ পর্যন্ত ১৩৩ বলে অপরাজিত ১১১ রান করেন তিনি। অন্য প্রান্তে ব্র্যাড ইভান্স মাত্র ৩৬ বলে অপরাজিত ৫৮ রানের একটি ঝড়ো ইনিংস খেলেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ২৪৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তাসকিন আহমেদ দুটি উইকেট নেন। এ ছাড়া নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট শিকার করেন।
টেস্ট ম্যাচের হারের ক্ষতে ওয়ানডে সিরিজ জয় দিয়ে প্রলেপ দেওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের সামনে। তবে ব্যাটিং ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তিতে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সিরিজ হাতছাড়া করল বাংলাদেশ। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল জিম্বাবুয়ে। আর সফরকারী বাংলাদেশের সামনে এখন শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়ে অন্তত সান্ত্বনার জয় নিয়ে দেশে ফেরার চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি/এআর