images

খেলা / ফুটবল

ইংল্যান্ড নাকি নরওয়ে কে খেলবে সেমিফাইনাল, সুপার কম্পিউটারের ভবিষ্যদ্বাণী

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৩৯ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ নির্ধারণ হবে ইংল্যান্ড ও নরওয়ের মধ্যকার হাইভোল্টেজ কোয়ার্টার-ফাইনালের মাধ্যমে। মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইগুলোর একটি হিসেবে দেখছে পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান অপটা। তবে সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাসে সামান্য এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড।

অপটার ২৫ হাজার ম্যাচ সিমুলেশনের ফল অনুযায়ী, যেকোনো উপায়ে সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা ইংল্যান্ডের ৬২.৩ শতাংশ। বিপরীতে নরওয়ের সম্ভাবনা ৩৭.৭ শতাংশ।

ইংল্যান্ডের অভিজ্ঞতা তাদের পক্ষে থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে নরওয়ে লিখছে নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠে ইতোমধ্যেই চমক দেখিয়েছে তারা। শেষ ষোলোতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে স্টালে সোলবাকেনের দল।

এ পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচে চারটি জয় পেয়েছে নরওয়ে। একমাত্র হারটি এসেছে গ্রুপ পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে, যেখানে কোচ মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে শুরুর একাদশে ১০টি পরিবর্তন করেছিলেন। পরে নকআউট পর্বে আইভরি কোস্ট ও ব্রাজিলকে হারিয়ে শেষ আটে জায়গা নিশ্চিত করে তারা।

আক্রমণভাগে দারুণ ছন্দে রয়েছে নরওয়ে। পাঁচ ম্যাচে ১২ গোল করার পাশাপাশি ৯ গোল হজম করেছে দলটি। আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে আলোচনায় থাকলেও রক্ষণভাগের দুর্বলতা তাদের জন্য চিন্তার কারণ হতে পারে।

নরওয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা অবশ্য আর্লিং হালান্ড। বিশ্বকাপের প্রথম চার ম্যাচেই গোল করেছেন এই স্ট্রাইকার এবং মাত্র ১৮টি শট থেকে করেছেন সাত গোল। টানা পঞ্চম ম্যাচেও গোল করতে পারলে ২০১৪ সালের হামেস রদ্রিগেজের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম পাঁচ ম্যাচে গোল করার কীর্তি গড়বেন তিনি। নরওয়ের হয়ে ৫৪ ম্যাচে ৬২ গোল করা হালান্ড বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে টানা ১৪ ম্যাচে গোল করে করেছেন ২৭টি গোল।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা ছিল উত্থান-পতনে ভরা। তবে শেষ ষোলোতে মেক্সিকোর বিপক্ষে দাপুটে জয়ের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। বিশ্বকাপে এটি তাদের ১২তম কোয়ার্টার-ফাইনাল, যা ব্রাজিল ও জার্মানির পর তৃতীয় সর্বোচ্চ।

তবে শেষ আটের ইতিহাস খুব সুখকর নয় ইংলিশদের। আগের ১০টি কোয়ার্টার-ফাইনালের মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে তারা। তারপরও দলটির বড় শক্তি অভিজ্ঞতা ও তারকাদের উপস্থিতি।

ইংল্যান্ডের আক্রমণে সবচেয়ে বড় ভরসা অধিনায়ক হ্যারি কেইন। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সাত গোল করা হালান্ডের ঠিক পেছনেই আছেন তিনি, করেছেন ছয় গোল। নকআউট পর্বেও ধারাবাহিক কেইন। বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচে ১২ খেলায় তার গোল ১১টি।

মিডফিল্ডে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন জুড বেলিংহ্যাম। মেক্সিকোর বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর এবারের বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার। এক বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের কোনো মিডফিল্ডারের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও এখন তার দখলে।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানও ইংল্যান্ডের পক্ষেই কথা বলছে। দুই দল ১২ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে আটটি ম্যাচ, নরওয়ে মাত্র দুটি। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সর্বশেষ চার দেখায় নরওয়ে ইংল্যান্ডের জালে একবারও বল পাঠাতে পারেনি।

আরও পড়ুন
MANE

আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন সাদিও মানে

তবে নকআউট পর্বে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। শেষ ছয়টি বিশ্বকাপ নকআউট ম্যাচের পাঁচটিতেই ইউরোপের দলের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছে তারা। অন্যদিকে বিশ্বকাপে ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এখনো কোনো জয় পায়নি নরওয়ে।

সব মিলিয়ে ইতিহাস, অভিজ্ঞতা ও সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস ইংল্যান্ডকে এগিয়ে রাখলেও, দুর্দান্ত ফর্মে থাকা আর্লিং হালান্ডের নেতৃত্বে নরওয়ে আরেকটি অঘটন ঘটাতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

আরটিভি/এসকে