সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ০৫:৩২ পিএম
বিশ্বকাপের মাঠে আর্জেন্টিনা কি রেফারিং ও ভিএআরের বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে—এই প্রশ্নটি এখন ফুটবল দুনিয়ায় অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। তবে বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজের ডেটা বিশ্লেষণ ও পরিসংখ্যান বলছে, সমালোচকদের এই দাবির পেছনে বাস্তব কিছু ভিত্তি থাকলেও তালিকায় এককভাবে কেবল আর্জেন্টিনাই শীর্ষে নেই।
শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর মিসরের কোচ ও ফুটবলাররা প্রকাশ্যে অভিযোগ তোলেন যে শিরোপাধারীদের সুবিধা দিতেই এবারের বিশ্বকাপ সাজানো হয়েছে। এরপর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলোকে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। অনেকের মতে, ওই সিদ্ধান্তটিতে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআরের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
নর্থইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ ষোলো পর্যন্ত ভিএআরের সব সিদ্ধান্ত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, ভিএআরের সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত দলের তালিকায় দুই নম্বরে অবস্থান করছে আর্জেন্টিনা। আর এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম যৌথ আয়োজক মেক্সিকো।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শেষ ষোলোর ম্যাচ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রেফারি বা ভিএআরের একটি সিদ্ধান্তও যায়নি। ঠিক একই চিত্র দেখা গেছে মেক্সিকোর ক্ষেত্রেও। প্রতি ১০০টি ফাউলের বিপরীতে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হিসাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত শীর্ষ পাঁচ দল হলো যথাক্রমে মেক্সিকো (দলের পক্ষে ৭.৮, বিপক্ষে ০.০), আর্জেন্টিনা (৬.৭, ০.০), পর্তুগাল (৪.৬, ০.০), নিউজিল্যান্ড (৪.২, ০.০) এবং সৌদি আরব (৩.৬, ০.০)।
অন্যদিকে মাঠের রেফারিং ও ভিএআরের কারণে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ক্রোয়েশিয়ার ওপর। ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপ দলটি পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত নিজেদের পক্ষে একটিও ভিএআর সিদ্ধান্ত পায়নি। উল্টো তাদের বিপক্ষে ভিএআরের হস্তক্ষেপের হার প্রতি ১০০ ফাউলে সর্বোচ্চ ৬.৫। ক্রোয়েশিয়ার পর এই তালিকায় ক্রমান্বয়ে রয়েছে ইরান (দলের পক্ষে ০.০, বিপক্ষে ৫.৪), কাতার (০.০, ৫.১), জার্মানি (০.০, ৪.০) এবং ইংল্যান্ড (০.০, ৩.৫)। ফলে রেফারিং নিয়ে বিতর্ক থাকলেও পরিসংখ্যান বলছে, কেবল আর্জেন্টিনা একাই নয়, আরও বেশ কয়েকটি দল রেফারিদের এই নীরব সুবিধা উপভোগ করছে।
আরটিভি/এআর