বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০১:১০ পিএম
ফিফা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে ফ্রান্সের। ম্যাচ শেষে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের দায় নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হওয়াই পরাজয়ের অন্যতম কারণ।
ম্যাচজুড়ে মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইসের নিয়ন্ত্রণে ফরাসিদের আক্রমণভাগ কার্যত নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। এর ফলে টানা তিন ম্যাচে ফ্রান্সকে হারানোর কৃতিত্বও অর্জন করেছে স্পেন।
ম্যাচ শেষে এমবাপে বলেন, মাঝমাঠে আমরা ছিলাম দুইজনের বিপরীতে তিনজন। স্পেনের মতো দলের বিপক্ষে এটি খুব কঠিন। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইস অনেক সময় ও জায়গা পেয়েছে। আমাদের প্রেসিংয়ে সমন্বয়ের অভাব ছিল। আমার মনে হয়, আমাদের ম্যান-টু-ম্যান প্রেসিং করা উচিত ছিল, যাতে তাদের দৌড়াতে বাধ্য করা যায়।
তিনি আরও বলেন, আমরা যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম, সেভাবে খেলতে পারিনি। প্রযুক্তিগত কিংবা কৌশলগত কোনো দিক থেকেই নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো বড় ম্যাচে পরিকল্পনা কাজে লাগাতে না পারলে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।
ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে স্পেনের গোলরক্ষক উনাই সিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এমবাপে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, অধিনায়ক হিসেবে সব দায় আমার। সেই দায়িত্ব নিতে আমার কোনো সমস্যা নেই। আমরা ফাইনালে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের মোড় ঘোরাতে একাধিক পরিবর্তন আনেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। বিরতির পর আদ্রিয়েন রাবিওটের বদলে মাঠে নামেন দেজিরে দুয়ে। পরে সুযোগ পান রায়ান শেরকিও। তবে কোনো পরিবর্তনই কাঙ্ক্ষিত ফল এনে দিতে পারেনি।
বিকল্প হিসেবে নেমে হতাশা প্রকাশ করেন রায়ান শেরকি। তিনি বলেন, কী বলব বুঝতে পারছি না। তারা আমাদের চেয়ে প্রতিটি বিভাগেই ভালো খেলেছে। আমার মনে হয়, জয়ের ক্ষুধাও তাদের বেশি ছিল। আমি এখনও বিশ্বাস করি, আমাদের দল আরও ভালো। কিন্তু আজ স্পেনই সেরা ছিল।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা প্রযুক্তিগত, কৌশলগত এবং মানসিক সব দিক থেকেই পিছিয়ে ছিলাম। সত্যি বলতে, আমাদের খেলায় কিছুই ঠিক ছিল না। চার বছর পর আমরা আবার ফিরব এবং একই ভুল আর করব না।
স্পেনের বিপক্ষে এই পরাজয়ের মাধ্যমে আবারও বিশ্বকাপের শিরোপার স্বপ্ন থেমে গেল ফ্রান্সের। অন্যদিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপার আরও একধাপ কাছে পৌঁছে গেল স্পেন।
আরটিভি/এসকে