শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৬ পিএম
স্পেনের বিপক্ষে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণের আগে মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জয়ের পর ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক স্লোগান ও ব্যানার প্রদর্শনের অভিযোগে আলবিসেলেস্তেদের অন্তত ছয়জন খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করার জন্য ফিফার কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আটলান্টা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেই সেমিফাইনালের আগে ও পরে আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের ১৯৮২ সালে ইংল্যান্ডের সঙ্গে যুদ্ধ হওয়া বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গান গাইতে দেখা যায়।
শুধু তা-ই নয়, ম্যাচ জয়ের পর তারা মাঠের ভেতর ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’ (ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি রাজনৈতিক ব্যানার উঁচিয়ে উদযাপন করেন।
ফিফার স্পষ্ট নিয়মানুযায়ী, ফুটবল ম্যাচে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক ব্যানার, বার্তা বা স্লোগান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের এমন কাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিটিশ লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের নেতা ও প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ এড ডেভি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফাকে এই ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফিফা সভাপতিকে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠিও পাঠিয়েছেন।
স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এড ডেভি বলেন, ফিফার নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা ব্যানার নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ফিফার নিয়মের চরম লঙ্ঘন করেছে। এটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা এবং সেই অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রাণ দেওয়া শহীদ ব্রিটিশ সেনাদের পরিবারের জন্য চরম অপমানজনক।
তিনি আরো মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালে একই ধরনের স্লোগান দেওয়ায় স্পেনের রদ্রি ও আলভারো মোরাতাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল উয়েফা। এবারও সেই নিয়মের প্রয়োগ চান তিনি।
ডেভির দাবি অনুযায়ী, যে ছয়জন খেলোয়াড় সেই ব্যানার ধরে রেখেছিলেন এবং চারপাশে উদযাপন করছিলেন, তাদের সবাইকে রবিবারের ফাইনাল ম্যাচ থেকে নিষিদ্ধ করা উচিত।
জানা গেছে, সেই বিতর্কিত ব্যানারটি হাতে ধরা অবস্থায় ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসো। অন্যদিকে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ম্যাচ পরবর্তী সাক্ষাৎকারে সরাসরি বলেন, ফকল্যান্ডস ‘সব সময়ই আর্জেন্টিনার থাকবে’।
আরটিভি/এসআর