শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৬ পিএম
ফুটবল বিশ্বের নজর এখন মরক্কোর দিকে। দেশটির কাসাব্লাঙ্কার কাছে নির্মাণাধীন গ্র্যান্ড হাসান ২ স্টেডিয়াম বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামকে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অন্যতম প্রধান ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে স্টেডিয়ামটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যেই নির্মাণ শেষ হবে। এরপর বিশ্বকাপের আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্টেডিয়ামটির সব ধরনের প্রস্তুতি যাচাই করা হবে।
২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। সেই আসরের ফাইনাল নিজেদের মাটিতে আয়োজনের লক্ষ্যেই মরক্কো এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করেছে মরক্কোর স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ওয়ালালু অ্যান্ড হোই এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পপুলাস। আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটানো হয়েছে এর নকশায়।
স্টেডিয়ামটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো এর অনন্য ডিজাইন। নকশার অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে মরক্কোর ঐতিহ্যবাহী ‘মৌসেম’ উৎসবের বিশাল তাঁবু থেকে। বিশাল অ্যালুমিনিয়ামের ছাদ এমনভাবে নির্মাণ করা হবে, যাতে পুরো মাঠ ও দর্শক প্রবেশপথের ওপর একটি ভাসমান ছাউনির অনুভূতি তৈরি হয়।
প্রকল্পটি কাসাব্লাঙ্কা থেকে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার উত্তরে এল মানসুরিয়া এলাকায় ১০০ হেক্টরেরও বেশি জমির ওপর গড়ে তোলা হচ্ছে। শুধু একটি স্টেডিয়াম নয়, পুরো কমপ্লেক্সজুড়ে থাকবে সবুজ উদ্যান, উন্মুক্ত স্থান এবং দর্শনার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক সুবিধা। প্রকল্পটির আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০০ মিলিয়ন ইউরো।
ফুটবলের বাইরেও বছরজুড়ে স্টেডিয়ামটিকে সচল রাখতে এখানে নির্মাণ করা হবে একটি আধুনিক হোটেল, শপিং সেন্টার, ইনডোর সুইমিং পুল এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের জন্য অত্যাধুনিক মিডিয়া সুবিধা। লক্ষ্য, এটিকে একটি বহুমুখী বিনোদন ও সেবাকেন্দ্রে পরিণত করা।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামের স্বীকৃতি হয়তো দীর্ঘদিন ধরে রাখতে পারবে না গ্র্যান্ড হাসান ২ স্টেডিয়াম। কারণ, ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে ত্রং ডং স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবিত এই স্টেডিয়ামের ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ৩৫ হাজার দর্শক। ভবিষ্যৎ অলিম্পিক স্পোর্টস সিটির অংশ হিসেবে নির্মিতব্য স্টেডিয়ামটির কাজ ২০২৮ সালের আগস্টে শেষ হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
আরটিভি/এসকে