বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৪ পিএম
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত ১২ জন ফিলিস্তিনি ফুটবলার, কোচ এবং রেফারির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস এবং ইসলামিক জিহাদের (আইজে) সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ এনেছে ইসরায়েল।
বুধবার (২২ জুলাই) নিহত ওই ১২ ব্যক্তিদের পরিচয়ের একটি তালিকা ও ছবি প্রকাশ করে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুইজন ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ইসরায়েল সীমান্তে হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এই অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, নিহত যেসব ফিলিস্তিনি ফুটবলার, রেফারি ও কোচদের এতদিন নির্দোষ বেসামরিক নাগরিক বা অ্যাথলেট হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল, তারা প্রকৃতপক্ষে হামাস ও ইসলামিক জিহাদের সামরিক শাখার সন্ত্রাসী ছিলেন। প্রকাশিত তালিকায় তাদের সঠিক পরিচয় উন্মোচন করা হলো।
এদিকে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সের (আইডিএফ) দাবি অনুযায়ী, তালিকার কয়েকজন বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর শীর্ষ কমান্ড পদে ছিলেন এবং বাকিরা সশস্ত্র যোদ্ধা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বিবৃতির সূত্রে জানা গেছে, এই তথ্যের একটি অংশ উন্মুক্ত তথ্যসূত্র (ওপেন-সোর্স) থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তাদের সবাইকে ‘সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্ত্রাসী’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

আইডিএফের দেওয়া তালিকায় অন্যতম নাম ছিল মোহাম্মদ সামি মোহাম্মদ খাত্তাব, যিনি বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার (ফিফা) একজন আন্তর্জাতিক সহকারী রেফারি হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, খাত্তাবকে একজন সাধারণ ফুটবলার হিসেবে তুলে ধরা হলেও তিনি প্রকৃতপক্ষে ইসলামিক জিহাদের ‘সেন্ট্রাল ক্যাম্পস ব্রিগেডের’ একজন সন্ত্রাসী ছিলেন।

এর প্রমাণস্বরূপ খাত্তাবের তিনটি ছবি প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। যার একটিতে তাকে ফিফা ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) লোগো সংবলিত জার্সিতে দেখা যায়, অন্যটিতে কালো পোশাক ও টুপি পরা অবস্থায় এবং তৃতীয় ছবিতে তার হাতে একটি অস্ত্র দেখা যায়।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা বলেন, ফুটবল খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি ও ক্লাব কর্মকর্তাদের নির্বিচারে হত্যা করার মতো অপরাধ ঢাকতেই ইসরায়েল এই মিথ্যা অভিযোগের আশ্রয় নিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনীর উত্থাপিত এসব অভিযোগের সত্যতা তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে, এ বিষয়ে হামাস বা ইসলামিক জিহাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের নজিরবিহীন হামলায় ১,২২১ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এর জবাবে গাজায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দীর্ঘ লড়াই ও সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে হামাস নিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

যুদ্ধজুড়ে ফিলিস্তিনি ফুটবল কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ক্রীড়াবিদদের হত্যা এবং গাজার ক্রীড়া অবকাঠামো ধ্বংসের অভিযোগ এনে আসছে। এর জবাবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না, বরং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বেসামরিক অবকাঠামোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
আরটিভি/এসআর