বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০২:২৪ পিএম
আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই দাবি করেছেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে চলমান আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও প্রচারণার পেছনে ব্রাজিল সরকার বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন মিলেই। ইনস্টাগ্রামে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি দাবি করেন, আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সমালোচনার মূল কারণ হলো ‘হিংসা’।
মিলেইর অভিযোগ, লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন ব্রাজিল সরকারই এই প্রচারণার সবচেয়ে বড় অর্থদাতা।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনাবিরোধী এই প্রচারণায় সবচেয়ে বেশি অর্থ দিয়েছে ব্রাজিল সরকার। মোট অর্থায়নের ২৫ শতাংশই এসেছে ব্রাজিল সরকারের কাছ থেকে। এরপর তারাই আবার আমাকে হস্তক্ষেপ নিয়ে শিক্ষা দেয়।
এছাড়া তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টিও এই প্রচারণায় অর্থায়ন করেছে। তার ভাষায়, তারা সেই প্রগতিশীল শক্তি, যারা স্বাধীনতার ধারণার সফলতা দেখতে চায় না।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মিলেই কোনো প্রমাণ বা নথি প্রকাশ করেননি।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দলটি টুর্নামেন্টে বাড়তি সুবিধা পেয়েছে এমন অভিযোগ যেমন উঠেছে, তেমনি ফাইনালে স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টাইন ফুটবলারদের আচরণ নিয়েও সমালোচনা হয়েছে। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনাও আলোচনায় আসে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতি মিলেইয়ের প্রকাশ্য সমর্থন এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা রয়েছে। তবে মিলেই এসব সমালোচনাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, তোমার যদি শত্রু থাকে, তার মানে তুমি কোনো না কোনো সময় কোনো কিছুর পক্ষে দাঁড়িয়েছ। আমরা আর্জেন্টিনার পক্ষে দাঁড়াই।
আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, আর্জেন্টিনার সমস্যা হলো আমরা আলাদা করে নজর কাড়ি। আমরা কখনোই চোখ এড়িয়ে যাই না। মানুষ আমাদের হিংসা করে, কারণ আমরা প্রায় সবকিছুতেই ভালো।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ চলাকালে আর্জেন্টিনার কিছু সমর্থকের বর্ণবাদী আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা হয়। ফাইনালের আগে স্যামুয়েল এল. জ্যাকসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে ‘বিশ্বের অন্যতম বর্ণবাদী দেশ’ বলে মন্তব্য করেন। পরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দেশটিতে বর্ণবাদের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও পুরো দেশকে এককভাবে বর্ণবাদী হিসেবে চিহ্নিত করার সমালোচনা করে।
আরটিভি/এসকে