বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৯ পিএম
বিশ্ব ফুটবলে ক্লাবগুলোর বড় আয়ের অন্যতম উৎস আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠিয়ে বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটির মতো ইউরোপীয় ক্লাবগুলো যেখানে কোটি কোটি টাকা আয় করেছে, সেখানে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিল পেরুর ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব দেপোর্তিভো মিউনিসিপাল।
১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দেপোর্তিভো মিউনিসিপাল পেরুর অন্যতম প্রাচীন ফুটবল ক্লাব। দীর্ঘ ইতিহাসে ৭০ বছরেরও বেশি সময় দেশটির শীর্ষ লিগে খেলেছে দলটি। তবে বর্তমানে তারা খেলছে তৃতীয় বিভাগে। মাঠের পারফরম্যান্সের অবনতির পাশাপাশি ভয়াবহ আর্থিক সংকটও গ্রাস করেছিল ক্লাবটিকে। স্পনসরের অভাবে দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায় তারা।
এমন পরিস্থিতিতে প্রচলিত পথের বাইরে গিয়ে অভিনব এক উদ্যোগ নেয় দেপোর্তিভো। সাধারণত একটি ফুটবল জার্সিতে দুই বা তিনটি স্পনসরের লোগো দেখা গেলেও, তারা জার্সিজুড়ে তৈরি করে অসংখ্য ছোট ছোট বর্গাকার জায়গা। লাল স্যাশের ওপর ও নিচে কালো-সাদা বক্সে স্থানীয় ছোট দোকান, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং সমর্থকদের বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়।
প্রতিটি বিজ্ঞাপনের জন্য নির্ধারণ করা হয় ২০০ পেরুভিয়ান সোলস, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ হাজার ৩৮৮ টাকার সমান। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সমর্থকদের সম্পৃক্ত করেই অর্থ সংগ্রহ করে ক্লাবটি।
‘দ্য থাউজেন্ড স্পনসর অব মুনি’ নামে পরিচিত এই ব্যতিক্রমী প্রচারণা দেপোর্তিভোকে দেউলিয়াত্বের হাত থেকে রক্ষা করেছে। শুধু আর্থিক সংকটই কাটেনি, তাদের এই সৃজনশীল উদ্যোগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও সৃজনশীলতার বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ আসর কান লায়নস ফেস্টিভ্যাল অব ক্রিয়েটিভিটি-তে ‘গ্র্যান্ড প্রিক্স’ পুরস্কার জিতেছে দেপোর্তিভো মিউনিসিপালের এই উদ্যোগ। ফুটবল ক্লাবের আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় এসেছে পেরুর ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
আরটিভি/এসকে