শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ , ০৪:১৬ পিএম
বিশ্বকাপ সংক্রান্ত ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনাকে ঘিরে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে নাসের আল-খেলাইফির নাম সামনে এনেছে উয়েফা। এমন দাবি করেছে টেলিগ্রাফ স্পোর্টস।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে দেওয়ার প্রস্তাব ইউরোপীয় ফুটবলে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এ পরিকল্পনার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক যোগসূত্র থাকার দাবিও উঠে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে উয়েফা সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করে। সেখানে ফিফার পরিকল্পনার বিরোধিতা, সম্ভাব্য বিশ্বকাপ বয়কট এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানিয়েছে টেলিগ্রাফ স্পোর্টস।
বৈঠকে উপস্থিত উয়েফার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়া প্রায় যে কাউকেই আমি সমর্থন করব। তার এই মন্তব্য ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনে বিরাজমান অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে আলোচনায় থাকলেও ফিফা সভাপতি হওয়ার আগ্রহ নেই বলে জানিয়েছেন নাসের আল-খেলাইফির প্রতিনিধি। তার ভাষ্য, ফিফা সভাপতি পদ নিয়ে নাসেরের কোনো পরিকল্পনা বা আগ্রহ নেই। তিনি ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক ফুটবল সংস্থাগুলোকে আগের মতোই সমর্থন জানিয়ে যাবেন।
বর্তমানে আল-খেলাইফি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের (ইসিএ) চেয়ারম্যান এবং উয়েফার নির্বাহী কমিটির সদস্য। পাশাপাশি তিনি বিইন মিডিয়া গ্রুপেরও প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিফার বিতর্কিত বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসিএও। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, বিশ্বের ৮৫০টির বেশি ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করলেও এত বড় একটি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তারা গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে স্বচ্ছ ও অর্থবহ আলোচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে ইনফান্তিনোকে সরিয়ে নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা সহজ হবে না। ফিফার ২১১টি সদস্যদেশের অধিকাংশের সমর্থন ছাড়া সভাপতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। এর মধ্যে উয়েফার সদস্য মাত্র ৫৫টি দেশ। ফলে ইউরোপের সমর্থন পেলেও বৈশ্বিক পর্যায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করাই হবে যেকোনো বিকল্প প্রার্থীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আরটিভি/এসকে