সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬ , ০১:১৮ পিএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপসহ সংস্থার বড় প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন উয়েফার কার্যনির্বাহী কমিটির একমাত্র দুই নারী সদস্য লরা ম্যাকঅ্যালিস্টার এবং লিসে ক্লাভেনেস।
দ্য অ্যাথলেটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনফান্তিনোর এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার ওপর সদস্য দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় জরুরি অনলাইন বৈঠকে বসে উয়েফা। প্রায় ১৫০ কর্মকর্তা অংশ নেওয়া সেই বৈঠকে বেশিরভাগ কর্মকর্তা ফিফার সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজছিলেন। তবে ম্যাকঅ্যালিস্টার সরাসরি ফিফার প্রতিযোগিতা বর্জনের প্রস্তাব দেন। তার সঙ্গে একমত হয়ে ক্লাভেনেস প্রয়োজনে ফিফার নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং আরও কঠোর জবাবদিহির দাবিও তোলেন।
ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার এই কঠোর অবস্থানের মুখে শেষ পর্যন্ত ইনফান্তিনোর পরিকল্পনা আর এগোয়নি।
ওয়েলসের সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ম্যাকঅ্যালিস্টার খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই নারী ফুটবলের স্বীকৃতির আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালে তিনি প্রথম ওয়েলশ প্রতিনিধি হিসেবে উয়েফার কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হন। পরে তার উদ্যোগেই কমিটিতে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন একটি থেকে বাড়িয়ে দুটি করা হয়।
অন্যদিকে, নরওয়ের হয়ে ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা ক্লাভেনেস আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষে ফুটবল প্রশাসনে যুক্ত হন। ২০২২ সালে তিনি নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশনের ১২০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সভাপতি নির্বাচিত হন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কাতার বিশ্বকাপ, মানবাধিকার, গাজা সংকট এবং ফুটবল প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়ে সরব ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি এখনও সীমিত। ফিফা কাউন্সিলের ৩৭ সদস্যের মধ্যে নারী মাত্র আটজন। ফিফার ২১১ সদস্য দেশের মধ্যে মাত্র ১০টি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নারী। উয়েফার ২১ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটিতেও নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন মাত্র দুটি।
এই বাস্তবতায় ম্যাকঅ্যালিস্টার ও ক্লাভেনেসের ভূমিকা আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফুটবলের ক্ষমতার কেন্দ্র যেখানে এখনো পুরুষদের দখলে, সেখানে ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে দৃঢ় প্রতিবাদের কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন এই দুই নারী।
আরটিভি/এসকে