মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৮:৩৫ এএম
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বহুগুণ বেতন বৃদ্ধির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম নতুন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত হলে ইনফান্তিনোর বার্ষিক বেতন প্রায় ৩ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারত। এর সঙ্গে বাণিজ্যিক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে অতিরিক্ত বোনাস পাওয়ার সুযোগও থাকত।
বর্তমানে ফিফা সভাপতির হিসেবে ইনফান্তিনোর বার্ষিক বেতন প্রায় ৩০ লাখ ইউরো। অর্থাৎ প্রস্তাবিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তার আয় প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যেত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি নতুন বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বিশ্বকাপের টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্ব, স্পন্সরশিপ, টিকিট বিক্রি, লাইসেন্সিং এবং টুর্নামেন্ট আয়োজনের মতো লাভজনক কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তাব ছিল।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৩৬৫ কোটি ইউরো বিনিয়োগ সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ফিফা এটিকে বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরলেও ফাঁস হওয়া নথিতে শীর্ষ কর্মকর্তাদের জন্য মোটা অঙ্কের বেতন ও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাহী পদ রাখার বিষয়টি সামনে আসে।
প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, নতুন প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোতে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইনের সভাপতি নাসের আল-খেলাইফি, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খলিফা এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানির মতো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল।
বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ফিফার অনেক সদস্য ফেডারেশন তীব্র আপত্তি জানায়। তাদের অভিযোগ, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সীমিত কয়েকজন ব্যক্তি ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোও বিনিয়োগকারীদের আর্থিক স্বার্থের প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারত।
পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় বিরোধিতা আসে উয়েফার পক্ষ থেকে। সভাপতি আলেকসান্দার চেফেরিনের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উদ্যোগটিকে অস্বচ্ছ বলে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রত্যাহারের পাশাপাশি ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইনফান্তিনোর সম্ভাব্য বিশাল বেতন নিয়ে প্রকাশিত তথ্য ফিফার প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন কনফেডারেশনের প্রভাবশালী কর্মকর্তারা স্বাধীন নিরীক্ষা এবং আরও কঠোর জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে। ইউরোপ ও আমেরিকার ফুটবল নেতৃত্বের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস ভবিষ্যতে ফিফার বড় ধরনের বাণিজ্যিক সংস্কার বাস্তবায়নকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।
আরটিভি/এসকে