images

খেলা / ফুটবল

বহুল আলোচিত ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ বাতিল

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম

আগামী ১৫ আগস্ট থেকে শুরু হবে লা লিগার ২০২৬-২৭ মৌসুম। নতুন মৌসুম শুরুর আগে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ‘ভিনিসিয়ুস আইন’ বাতিল করার সিদ্ধান নিয়েছে লা লিগা কতৃপক্ষ।

‘ভিনিসিয়ুস আইন’ অনুযায়ী, ম্যাচের মধ্যে কোনো খেলোয়াড় তর্ক বা কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখলে তাঁকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানোর বিধান রাখা হয়েছিল, যাতে খেলোয়াড়রা মুখ লুকিয়ে কাউকে বর্ণবাদী বা আপত্তিকর গালি দিতে না পারে। 

তবে আস্তুরিয়াসের লাস কালদাসে অনুষ্ঠিত রেফারিদের প্রস্তুতি ক্যাম্পে প্রথম বিভাগ ও ভিএআর রেফারিরা বিশদ আলোচনার পর এই নিয়ম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।

আরও পড়ুন
LITcopy

স্টেগেনকে ছেড়ে দিলো বার্সেলোনা

আইনটি বাতিল করার মূল কারণ ব্যাখ্যা করে সংশ্লিষ্টরা জানান, গোলকিপার বা আউটফিল্ড খেলোয়াড়রা সবসময় কাউকে অপমান করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকেন না। বর্তমানে কৌশলগত বিষয় নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে আলোচনা বা কোনো পজিশন নিয়ে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখার একটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। স্পষ্ট কোনো প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র মুখ ঢাকার কারণে একটি দলকে ১০ জনের দলে পরিণত করাটা অযৌক্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ।

স্প্যানিশ গোলকিপার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ফ্রান সোতো স্প্যানিশ দৈনিক এএসকে বলেছেন, কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত প্রমাণ ছাড়া কোনো দল থেকে একজন খেলোয়াড়কে বের করে দেওয়া ঠিক নয়...। আমাদের দেখতে হবে এ ধরনের আচরণ বন্ধে আমরা এই উপায়ে যাব, নাকি অন্য কোনো পথ বের করব।’ তিনি নিশ্চিত করেন, ইউয়েফার নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

‘ভিনিসিয়ুস আইন’ বাতিলের পাশাপাশি সময় অপচয় বন্ধে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আদলে নতুন নিয়ম চালুর প্রস্তাব দিয়েছে লা লিগা। 
ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের কাছে তারা অনুরোধ জানিয়েছে, কোনো গোলরক্ষক যদি ভুয়া চোটের নাটক করে অযথা সময় নষ্ট করে, তবে রেফারি যেন শাস্তি হিসেবে তাকে বা তার দলকে সাময়িকভাবে ১ মিনিটের জন্য ১০ জনের দলে পরিণত করার ক্ষমতা পান।

এ ছাড়া স্পেনের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আসরে দেখা যাওয়া বেশ কিছু আধুনিক নিয়মও এবারের লা লিগায় দেখা যাবে। যার মধ্যে রয়েছে— থ্রো-ইনের জন্য কাউন্টডাউন ক্লক ব্যবহার, খেলোয়াড় পরিবর্তনের সময়সীমা সর্বোচ্চ ১০ সেকেন্ড নির্ধারণ করা এবং মাঠে চিকিৎসা নেওয়া খেলোয়াড়কে অন্তত ১ মিনিট মাঠের বাইরে রাখা।

ভিএআর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর নীতি অনুসরণের বার্তা দিয়েছে উয়েফা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তি কেবল স্পষ্ট ও গুরুতর ভুল সংশোধনের জন্য হস্তক্ষেপ করবে। অর্থাৎ যখন রেফারির সিদ্ধান্ত পরিষ্কারভাবে ভুল হবে বা রেফারি কোনো স্পষ্ট অপরাধ চোখ এড়িয়ে যাবেন, কেবল তখনই এটি কার্যকর হবে। 

ভিএআরের উদ্দেশ্য ম্যাচ নতুন করে পরিচালনা করা নয়, বরং রেফারিকে সহায়তা করা—কেননা মূল সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রেফারিকেই থাকতে হবে।

আরটিভি/এসআর