বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০১:৫১ পিএম
২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমস শেষ হতে না হতেই নতুন বিতর্কে জড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রীড়াঙ্গন। আসর শেষে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে দলীয় হোটেল থেকে নিখোঁজ হয়েছেন পাকিস্তানি বক্সার কুদরতুল্লা। ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশন (পিবিএফ) ও দলের অ্যাথলেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (পিওএ) একটি সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, নিজের ইভেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই কুদরতুল্লার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নিয়ম অনুযায়ী তার পাসপোর্ট ছিল দলীয় ম্যানেজারের জিম্মায়। পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের কাছে থাকা সত্ত্বেও একজন অ্যাথলেট কীভাবে হোটেল ছেড়ে নিখোঁজ হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা নিয়ে।
এ ধরনের ঘটনা অবশ্য পাকিস্তান বক্সিংয়ে নতুন নয়। ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসেও একইভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন দুই পাকিস্তানি বক্সার সুলেমান বালোচ ও নজিরুল্লাহ খান। সে সময়ও তাদের পাসপোর্ট কর্মকর্তাদের কাছে ছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ইতালির বুস্তো আরসিজিওতে অনুষ্ঠিত অলিম্পিক বাছাই পর্বে এশিয়ান স্বর্ণজয়ী বক্সার জোহাইব রশিদ রুমমেটের বৈদেশিক মুদ্রা ও মূল্যবান সামগ্রী চুরির অভিযোগে নিখোঁজ হন।
কুদরতুল্লার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় আড়ালে পড়ে গেছে পাকিস্তানের নারী বক্সার ফতিমা জাহরার ঐতিহাসিক সাফল্য। গ্লাসগো গেমসে ৬০ কেজি বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতে কমনওয়েলথ গেমসের ইতিহাসে প্রথম পাকিস্তানি নারী বক্সার হিসেবে পদক জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। এই অর্জনের স্বীকৃতি হিসেবে সমাপনী অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের পতাকাবাহকের দায়িত্বও পালন করেন ফতিমা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পাকিস্তান মাত্র একটি পদক জিতেছে। দেশের একমাত্র সেই পদক এনে দেন ফতিমা জাহরা। তবে তার ঐতিহাসিক অর্জনের বদলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে কুদরতুল্লার রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা।
আরটিভি/এসকে