সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ , ০১:০৮ পিএম
রাস্তায় গড়ে সর্বোচ্চ গতির ক্ষেত্রে বাইক অন্যান্য সব বাহন থেকে এগিয়ে। এমনকি বিশ্বের দ্রুততম গাড়ি ডেভেল সিক্সটিনের থেকেও এগিয়ে আছে সর্বোচ্চ গতির বাইক। ডেভেল সিক্সটিনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৪৮ মাইল! যা অবিশ্বাস্যরকম দ্রুত হলেও বিশ্বের দ্রুততম বাইকের গতির চেয়ে কম।
তবে বাংলাদেশে ১৬৫ সিসির বেশি বাইক ব্যবহারের অনুমতি নেই। কিন্তু উন্নত বিশ্বে এমন সব সুপারবাইক রাস্তা দিয়ে ছুটে চলছে যার সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি। চলুন দেখে নেওয়া যাক বিশ্বের ১০টি দ্রুততম মোটরসাইকেল সম্পর্কে—
ডজ টমাহক
বিশ্বের দ্রুততম বাইকের তালিকায় সবার প্রথমে আছে কিংবদন্তি ডজ টমাহক। যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৩৫০ মাইল বা ৫৬৩ কিলোমিটার। পৃথিবীর সর্বোচ্চ গতির গাড়িগুলোও এই ধরনের গতির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না।
এই সুপারবাইকটির মধ্যে রয়েছে একটি ১০ ভালভের ৪ স্ট্রোকের ৮ হাজার ২৭৭সিসি ইঞ্জিন। রয়েছে ৪টি চাকা। যেগুলোর আবার প্রত্যেকটির নিজস্ব সাসপেনশন রয়েছে। ডজ ভাইপার গাড়ির একই ইঞ্জিন এই বাইকে ব্যবহৃত হয়েছে। যেটি হচ্ছে, ৮.৩-লিটার ভি১০ ডজ ভাইপার এসআরটি১০ ইঞ্জিন। ২০০৩ সালে এই মোটরসাইকেলটির দাম ছিল ৫ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। যার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ কোটি ৯০ লাখ টাকার মতো।
২০২৩ বিএমডব্লিউ এস১০০০ আরআর
২০২৩ বিএমডাব্লিউ এস১০০০-এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৯৯ মাইল বা ৪৮১ কিলোমিটার। এই মোটরসাইকেলটির রয়েছে একটি ৯৯৯ সিসি ১৬-ভালভ মোটর ইঞ্জিন। বিএমডাব্লিউ এস১০০০-এর ফ্রেমটি অত্যন্ত হালকা, যা এর গতির জন্যই বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এই দ্রুততম বিএমডব্লিউ বাইকটির ওজন এর আগের বাইকগুলোর তুলনায় ৪ কেজি কম।
বাইকটি ২ দশমিক ৭ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। এবিএস, ক্রুজ কন্ট্রোল ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যগুলো প্রমাণ করে যে মোটরসাইকেলটি রাস্তায় চলার জন্যেও সুবিধাজনক। এর বাজারমূল্য প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
এমভি অগাস্টা এফ৪ ১০০০আর
১০০০ সিসির এই বাইকটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৯৮ মাইল বা প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার। বাইকটি মাত্র ২ দশমিক ৭ সেকেন্ডের মধ্যে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৬০ মাইল পর্যন্ত গতি তুলতে সক্ষম। এর ৮-স্তরের ট্র্যাকশন নিয়ন্ত্রণ, আপনাকে এমন দ্রুত গতিতেও বাইকটি দুর্দান্তভাবে পরিচালনা করার ক্ষমতা দেবে। এমভি অগাস্টা এফ৪ ১০০০আর-এর রয়েছে ১৭৪ অশ্বশক্তির ক্ষমতা। এর বাজারমূল্য প্রায় ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার।

এমটিটি ওয়াই২কে ৪২০-আরআর
এমটিটি বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সুপারবাইকগুলো তৈরি করে থাকে। যাদের মধ্যে একটি হচ্ছে, এমটিটি ওয়াই২কে ৪২০-আরআর। যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৭৩ মাইল বা প্রায় ৪৪০ কিলোমিটার। এমটিটি টারবাইন সুপারবাইক ওয়াই২কে-এর ৩২০ মডেলটিতে রয়েছে ৪২০ অশ্বশক্তির ক্ষমতা। যাতে ব্যবহৃত হয়েছে রোলস রয়েস অ্যালিসন ২৫০-সি২০ গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন। অ্যালিসন ২৫০-এর কয়েকটি ধরন রয়েছে, যেগুলো হেলিকপ্টারে পর্যন্ত ব্যবহৃত হয়!
এতে রয়েছে, একটি বড় সুইং আর্ম, পিরেলি ডায়াবলো ২৪০ রিয়ার টায়ার, বেশি জ্বালানী রাখার সক্ষমতা এবং একটি উন্নত কুলিং সিস্টেম। এর দাম পড়বে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার মার্কিন ডলার।
এমটিটি টারবাইন সুপারবাইক ওয়াই২কে
এই বাইকটি এমটিটি ওয়াই২কে ৪২০-আরআর-এর পূর্ববর্তী সংস্করণ। যেখানে, রোলস রয়েস অ্যালিসন ২৫০-সি২০ ইঞ্জিনটির পরিবর্তে এখানে রোলস রয়েস অ্যালিসন ২৫০-সি১৮ টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনটি ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু তবুও এটি বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির বাইকের তালিকায় স্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে। কারণ এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫০ মাইল বা ৪০২ কিলোমিটার। ২০০৪ সালে এটি প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
কাওয়াসাকি নিনজা এইচ২আর
এই বাইকের ৪ স্ট্রোক লিকুইড কুলড, ইন-লাইন ফোর, ডিওএইচসি, ১৬-ভালভের ৯৯৮সিসি ইঞ্জিন একে শুধু দ্রুত না দুর্দান্ত রকম দ্রুত করে তুলেছে। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৪৯ মাইল বা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে সক্ষম। এতে রয়েছে, কেটিআরসি বা কাওয়াসাকি ট্র্যাকশন কন্ট্রোল, কেআইবিএস বা কাওয়াসাকি ইন্টেলিজেন্ট অ্যান্টি-লক ব্রেক সিস্টেম, কেইবিসি বা কাওয়াসাকি ইঞ্জিন ব্রেক কন্ট্রোল এবং কেএলসিএম বা কাওয়াসাকি লঞ্চ কন্ট্রোল মোড। এগুলো সুরক্ষা প্রদানের পাশাপাশি বাইকটিকে মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার।
দ্য লাইটেনিং এলএস-২১৮
আমেরিকার লাইটেনিং মোটরসাইকেল কোম্পানির নকশা করা দ্য লাইটেনিং এলএস-২১৮ হলো একটি বৈদ্যুতিক বাইক। যা ২০১৪ সাল থেকে আমেরিকায় উৎপাদিত হয়ে আসছে। বাইকটি রাস্তায় চলার জন্য অনুমোদন পেয়েছে। বাইকটি ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের দ্রুততম বৈদ্যুতিক বাইকের খেতাব ধরে রেখেছে। যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২১৮ মাইল বা ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতি তুলতে পারে। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩৯ হাজার মার্কিন ডলার থেকে ৪৭ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
ডুকাটি ১১৯৯ প্যানিগেল আর
১১৯৯ প্যানিগেল আর ডুকাটির সবচেয়ে দ্রুততম বাইক। যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০২ মাইল বা ৩২৫ কিলোমিটার। বাইকটি, বিশেষ করে এর ড্রাইভিং ডাইনামিকস, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং এর অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জন্য বেশ প্রশংসিত। ১১৯৯ প্যানিগেল-এ রয়েছে একটি লিকুইড কুলড, এল-টুইন ইঞ্জিন। যা ডুকাটির দাবি অনুসারে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী টুইন-সিলিন্ডার প্রোডাকশন ইঞ্জিন। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।

ড্যামন হাইপারস্পোর্ট প্রো
ড্যামন হাইপারস্পোর্ট প্রো হলো একটি বৈদ্যুতিক বাইক। যা একটি স্পোর্টবাইক এবং স্ট্যান্ডার্ড মোটরসাইকেলের সংমিশ্রণ। এতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এখন পর্যন্ত বাজারে সবচেয়ে উন্নত। সব মিলিয়ে এটি উচ্চ-পারফরম্যান্সের একটি সার্বিক প্যাকেজ। যার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ মাইল বা ৩২২ কিলোমিটার।
ড্যামনে রয়েছে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যার নাম কো-পাইলট। যা হ্যান্ডেলবারে দুটি ক্যামেরা এবং হ্যাপটিক ফিডব্যাক ব্যবহার করে এর চালককে আশেপাশের ট্র্যাফিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করে। শুধু উন্নত প্রযুক্তিই নয়, পাশাপাশি এর পারফরম্যান্সও দুর্দান্ত। এর অত্যন্ত শক্তিশালী ২০০ অশ্বশক্তির ইঞ্জিন থেকে আসে। মোটরসাইকেলটির বাজারমূল্য প্রায় ২৫ হাজার মার্কিন ডলার।
ডুকাটি প্যানিগেল ভি৪ আর
ডুকাটি প্যানিগেল ভি৪ আর অনেকটাই একটি রেসিং প্রোটোটাইপ বাইকের মতো। ইতালীয় শৈলী এবং পারফরম্যান্সের মিশ্রণ একে একটি অতি শক্তিশালী বাইকে পরিণত করেছে। এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৯৯ মাইল বা ৩২০ কিলোমিটার। প্যানিগেল ভি৪ আর-এর এই দুর্দান্ত গতির পেছনে রয়েছে এর ডেসমসডিসি স্ট্রাডেল আর ইঞ্জিন। ৯৯৮ সিসি এর এই ইঞ্জিনটি ২২১ অশ্বশক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এর বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার।