images

তথ্যপ্রযুক্তি

পাসওয়ার্ড নির্বাচনে সচেতন না হলেই বিপদ, জানুন কীভাবে সুরক্ষিত রাখবেন অ্যাকাউন্ট

বৃহস্পতিবার, ০৭ আগস্ট ২০২৫ , ০২:৪০ পিএম

বর্তমান ডিজিটাল যুগে পাসওয়ার্ড হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা দেয়াল। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ব্যাংকিং, অনলাইন ওয়ালেট কিংবা ব্যক্তিগত ডিভাইস—সবখানেই একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডই পারে ব্যবহারকারীর তথ্যকে সুরক্ষিত রাখতে। কিন্তু হ্যাকারদের দৌরাত্ম্যে প্রতিদিনই নানা অ্যাকাউন্ট ও তথ্য হ্যাকের ঘটনা বাড়ছে। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সর্বোচ্চ সচেতনতা অবলম্বনের পরামর্শ দিচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। 

. শক্তিশালী পাসওয়ার্ড কেমন হওয়া উচিত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড হতে হবে এমন যা অনুমান করা কঠিন এবং স্বাভাবিক অভিধানভিত্তিক আক্রমণ প্রতিহত করতে সক্ষম। এজন্য পাসওয়ার্ডে থাকা উচিত বড় হাতের অক্ষর (Capital letters), ছোট হাতের অক্ষর (Small letters), সংখ্যা (Digits) এবং বিশেষ চিহ্ন (@, #, &, ইত্যাদি)। যেমন: Rx7@tY2#mN

. যেসব ভুলে পাসওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ হয়
পাসওয়ার্ড তৈরি করার সময় অনেকেই নিজের নাম, জন্মতারিখ, স্ত্রী বা সন্তানের নাম, এমনকি পোষা প্রাণীর নাম পর্যন্ত ব্যবহার করে থাকেন। এসব তথ্য সহজেই অনুমানযোগ্য হওয়ায় হ্যাকারদের জন্য পাসওয়ার্ড ভেঙে ফেলা হয়ে ওঠে সহজ। এ ধরনের ভুল এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

. নিয়মিত পরিবর্তন করুন পাসওয়ার্ড
একই পাসওয়ার্ড দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে তা হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত প্রতি এক থেকে তিন মাস অন্তর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা উচিত। একই নিয়ম প্রযোজ্য এটিএম কার্ডের পিন ও অনলাইন ওয়ালেটের ক্ষেত্রেও।

. টু-স্টেপ অথেন্টিকেশন চালু রাখুন
যেসব অ্যাপ বা অ্যাকাউন্টে টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA) বা বায়োমেট্রিক (আঙুলের ছাপ, মুখের ছাপ) ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো সক্রিয় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে অ্যাকাউন্টে অনুপ্রবেশের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

. একই পাসওয়ার্ড বারবার ব্যবহার নয়
অনেকেই সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন, যা একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি। যদি একবার কোনো একটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়, তবে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার ফলে হ্যাকার অন্যান্য অ্যাকাউন্টেও সহজেই প্রবেশ করতে পারে। 

. সতর্ক থাকুন ফিশিং আক্রমণ থেকে
কোনো সংস্থা, ব্যাংক বা বিমার নামে ফোন বা মেসেজ করে কেউ যদি পাসওয়ার্ড, পিন কিংবা ওটিপি জানতে চায়, তবে সেগুলো কখনোই শেয়ার করবেন না। এ ধরনের ফিশিং আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে স্মার্টফোন বা ডিভাইসে অবশ্যই লাইসেন্সড অ্যান্টিভাইরাস ও অ্যান্টিম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।

নিজেকে সাইবার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি। মনে রাখবেন, একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড মানেই আপনার ব্যক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং ডিজিটাল পরিচয়ের সুরক্ষা।

আরটিভি/এসকে