images

তথ্যপ্রযুক্তি

উল্কাবৃষ্টি কেন হয়?

মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর ২০২৫ , ০৭:০৫ পিএম

উল্কাবৃষ্টি হলো এমন একটি ঘটনা যখন আকাশে অনেক উজ্জ্বল আলোর রেখা দেখা যায়, যা আসলে মহাকাশ থেকে আসা ছোট ছোট কণা বা উল্কাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলজ্বল করে ওঠে। এগুলোকে ‘শুটিং স্টার’ বা ‘উল্কা’ বলা হয়। যখন অনেক উল্কা একসাথে আকাশে পড়তে থাকে, তখন সেটিকে উল্কাবৃষ্টি বা উল্কাঝড় বলা হয়।

প্রতি বছরের একটি নিদিষ্ট সময়ে হয়ে থাকে উল্কাবৃষ্টি। এ বছর বাংলাদেশের আকাশ থেকেও দেখা যাবে উল্কাবৃষ্টি। বাংলাদেশ ছাড়াও উত্তর গোলার্ধের যে কোনো স্থান থেকে পার্সেইড উল্কা বৃষ্টি দেখা যাবে। তাই অনেকের প্রশ্ন উঠতে পারে কেন হয় উল্কাবৃষ্টি?

আসুন জেনে নেওয়া যাক উল্কাবৃষ্টি কেন হয়

পৃথিবী সূর্যের চারপাশে প্রতি বছর একই পথে ঘুরতে থাকে। এই পথে যদি ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণা বা টুকরোর রেখার সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষপথের মিল হয়, তখন পৃথিবী সেই ধূলোর মেঘের মধ্যে দিয়ে চলে যায়।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার সময় ধূলিকণা বা শিলা প্রচণ্ড গতিতে (প্রায় ১১-৭২ কিমি/সেকেন্ড) ঘর্ষণের কারণে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। এই আলোর রেখাগুলোকেই আমরা উল্কা বলি। যখন একসঙ্গে অনেকগুলো উল্কা দেখা যায়, তখন সেটিকে উল্কাবৃষ্টি বলা হয়।

আরও পড়ুন
rtv

উল্কাবৃষ্টি আর ধূমকেতু দেখা যাবে আজ রাতে, কখন-কীভাবে দেখবেন

ধূমকেতুর ধূলোর রেখা মহাকাশে স্থায়ীভাবে একটি নির্দিষ্ট পথে থাকে। প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে পৃথিবী যখন সেই পথে প্রবেশ করে, তখনই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি: প্রতি বছর আগস্টে হয়, যার উৎস ধূমকেতু সুইফট-টুটেল। জেমিনিড উল্কাবৃষ্টি: ডিসেম্বর মাসে হয়, উৎস গ্রহাণু ৩২০০ প্যাথন।

প্রতিটি উল্কাবৃষ্টির নামকরণ করা হয় সেই নক্ষত্রপুঞ্জের নাম অনুসারে যেখান থেকে উল্কাগুলো আসছে বলে মনে হয়। যেমন-পার্সেইড উল্কাবৃষ্টি পারসিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জের দিক থেকে আসছে বলে মনে হয়।

উল্কাবৃষ্টি হলে কি পৃথিবীর কোনো ক্ষতি হয়?

সাধারণত উল্কাবৃষ্টি পৃথিবীর জন্য কোনো ক্ষতিকারক নয়। অধিকাংশ উল্কা বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই পুড়ে যায় এবং পৃথিবীর মাটি পর্যন্ত পৌঁছায় না। বড় আকারের উল্কাপিণ্ড পৃথিবীতে পড়লে ক্ষতি হতে পারে, কিন্তু সেটা খুবই বিরল। পার্সাইড, লিরিড বা গেমিনিডের মত বার্ষিক উল্কাবৃষ্টি সাধারণত নিরাপদ।

আরটিভি/এসআর