বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫ , ০৪:৪৯ পিএম
রকস্টার গেমসের নতুন সৃষ্টি ‘জিটিএ সিক্স’ বর্তমানে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভিডিও গেম হিসেবে পরিচিত, যার প্রাথমিক খরচ অনুমান করা হচ্ছে ১ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার। এই অঙ্কটি তুলনা করলে, অ্যাভাটার, অ্যাভেঞ্জার্স এবং স্টার ওয়ার্স- এই তিনটি ফিল্মের সম্মিলিত বাজেটের চেয়েও বেশি! আর এক দশকের উন্নয়নকাল ধরে এটি প্রস্তুত হয়েছে, যা রেকর্ড ভাঙছে। খবর গালফ নিউজের।
জিটিএ ফাইভ, ২০১৩ সালের সফলতার পর রকস্টার গেমস ‘জিটিএ সিক্স’ এর প্রস্তুতি শুরু করে। তবে, প্রি-প্রোডাকশনেই তিন বছর লেগে যায়। ২০১৮ সালে প্রকৃত উন্নয়ন শুরু হলেও, কোভিড-১৯ মহামারি, রিমোট কাজের সমস্যা এবং সৃষ্টিশীল পরিপূর্ণতার জন্য একাধিক বিলম্ব ঘটে। এর ফলে গেমটি শেষ করতে সময় লেগেছে কয়েক বছর।
এরপর, ২০২২ সালে হ্যাকারের আক্রমণ ঘটে। ‘টিপোটিউবেরহ্যাকার’ নামক এক হ্যাকার ৯০টি অপরিপক্ব জিটিএ সিক্স ক্লিপ ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেয়, যা রকস্টার গেমসের জন্য এক বিপর্যয় ডেকে আনে। এর ফলে, রকস্টার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং হ্যাকারকে গ্রেপ্তারও করা হয়।
তবে, এর পরেও থামেনি গেমটির রোমাঞ্চকর ইতিহাস। ২০২৫ সালে আরও একটি লিক প্রকাশিত হয়, যা আবার রকস্টারের আইনজীবীদের জন্য এক নতুন ঝামেলা তৈরি করে।
এত বিপুল পরিমাণ বাজেটের সঙ্গে রকস্টার গেমস একটি বিশাল গেমিং সম্রাজ্য তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘জিটিএ সিক্স’-এ থাকবে একটি বিশাল নতুন পৃথিবী- লিওনিডা, যা ফ্লোরিডার উপর ভিত্তি করে তৈরি। এতে থাকবে দুটি প্রধান চরিত্র- জেসন ডুভাল এবং লুসিয়া কামিনোস, যেখানে লুসিয়া গিটিএ সিরিজের প্রথম নারী প্রধান চরিত্র হিসেবে হাজির হবেন।
রকস্টার গেমস অঙ্গীকার করেছে, এই বিলিয়ন ডলার খরচ এবং ১২ বছরের অপেক্ষা অবশ্যই মূল্যবান হবে। প্রতিটি পাম গাছের ছায়া, প্রতিটি পুলিশ চেজ এবং প্রতিটি স্যাটায়ারিক বিলবোর্ড এমনকি ছোটখাটো বিস্তারিতও নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা হয়েছে।
এদিকে গেমের ভক্তরা মজা করে বলছেন, তারা গেমটির ডিলাক্স এডিশন কেনার জন্য হয়তো অবসরকালীন সঞ্চয়ও ব্যবহার করতে হবে!
আরটিভি/কেআই